পটুয়াখালী সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের তীব্র ধাক্কায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় থ্রি-হুইলার অটোরিকশার চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর দুটি যানবাহনই চাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অটোরিকশাটি বাসের নিচে সম্পূর্ণ পিষ্ট হলে মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনার তালতলী এলাকা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘ইমরান ট্রাভেলস’-এর একটি দূরপাল্লার
যাত্রীবাহী বাস ধলু গাজীর মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে বিকট শব্দে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরপরই দুটি যানই সড়ক ছেড়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি পানিতে নিমজ্জিত হয় এবং এর নিচে অটোরিকশাটি
দুমড়েমুচড়ে আটকে পড়ে। গভীর রাতে ভয়াবহ সংঘর্ষের বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সদর থানা
পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে।
উদ্ধারকর্মীরা
ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রাণ হারানো চারজনই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। নিহতরা হলেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বাসিন্দা কাইয়ুম মিয়া (৫০), শিল্পী রানী (৪০), তিথি রানী (২৩) এবং মিরাজ (৩৫)। ভয়াবহ
এই দুর্ঘটনায় স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে এলাকার
বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আহত ১০ জনকে সংকটাপন্ন
অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী
ও বাসের যাত্রীদের মতে, বরগুনা থেকে ছাড়ার পর থেকেই ইমরান
ট্রাভেলসের বাসটির চালক অত্যন্ত বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে গাড়ি
চালাচ্ছিলেন। বাসে থাকা যাত্রী এমদাদুল ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘হ্যাগো, বাসডা শুরু থেইক্যাই বেজায় রাফ চালাইতেছিল। পরে কী যে হইল,
কিছুই বুঝবার পারি নাই। আল্লাহ তাআলা আমাগো জানে বাঁচাইছে।’ চালকের বেপরোয়া গতি সত্ত্বেও বাসে থাকা প্রায় ৩৫ জন যাত্রীর
মধ্যে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির চালক ও সুপারভাইজার কৌশলে
পালিয়ে যান।
উদ্ধার
অভিযান সম্পর্কে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। বাসের অভ্যন্তরে কেউ আটকে আছেন কি না বা
পানির নিচে আরও কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা
তল্লাশি করে দেখা হচ্ছে। পুরো উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত
হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ঘটনার
বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত চার অটোরিকশা যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলমান। উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর হতাহতের প্রকৃত
তথ্য জানানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই ঘটনায় আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’