সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলবর্তী কৌশলগত একাধিক জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। আকস্মিক এই হামলার পরপরই সৌদি রাজধানী রিয়াদে বিমান হামলার বিশেষ সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইয়েমেন থেকে সৌদি ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসা একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সময়মতো শনাক্ত করে তা আকাশেই ধূলিসাৎ করে দিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক অদূরেই একটি বড় জ্বালানি ট্যাংক থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে কিছু সময়ের জন্য ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়। যদিও এই ধোঁয়ার সঙ্গে হুথিদের সরাসরি কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক মুখপাত্র জানান, কেবল রিয়াদ নয়; দেশটির বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো একাধিক 'শত্রুতামূলক হামলা' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে রাজধানী রিয়াদে প্রথমবারের মতো বাজানো হয় জরুরি বিমান হামলার সাইরেন।
এদিকে হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের চলাচলে চরম সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বেসামরিক অবকাঠামো ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা বাড়াচ্ছ, যা দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে। যে কারণে মার্কিন নাগরিকদের ওই অঞ্চলে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।