ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা আবারও চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকা থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ভারী কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার ঘটনার পর বিমানবন্দরটিতে উড্ডয়ন ও অবতরণে ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে; বাতিল ও বিলম্বিত করা হয়েছে অসংখ্য আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার২৪' শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিশ্চিত করেছে যে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হঠাৎ বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওয়েবসাইটটি রিয়াদ বিমানবন্দরকে তাদের ডিসরাপশন ইনডেক্সে '৫.০' বা সর্বোচ্চ মাত্রার ফ্লাইট বিপর্যয়ের তালিকায় স্থান দিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তিনি বিমানবন্দরের দিকে তীব্র আগুনের শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলি স্পষ্ট দেখতে পেয়েছেন।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে যখন হুথি বিদ্রোহীরা অভিযোগ তোলে যে, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমায় রিকনসিস ড্রোন পাঠিয়েছে সৌদি আরব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুথিরা অবিলম্বে পাল্টা কড়া জবাব দেওয়ার হুমকি দেয়। হুথিদের সেই হুমকির পরপরই শুক্রবার গভীর রাতে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রদেশে সম্ভাব্য বিমান হামলার আগাম সতর্কতা জারি করে। সেই সতর্কতা জারির কিছু ঘণ্টার মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দরে এ অগ্নিকাণ্ড ও ফ্লাইট বিপর্যয়ের খবর সামনে এলো।
উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের শক্তিশালী হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। তবে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এই অগ্নিকাণ্ড হুথি হামলার কারণে ঘটেছে নাকি অন্য কোনো দুর্ঘটনা—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এএফপি