ভারতের নির্বাচন কমিশনের জারি করা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের বিরুদ্ধে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক অন্তর্বর্তী আদেশে নির্বাচন কমিশন জানায়, তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে দুটি পৃথক শিবিরের সৃষ্টি হওয়ায় দলের প্রকৃত পরিচয় ও সার্বিক কর্তৃত্ব নিয়ে আইনি বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিরোধাত্মক ইস্যুর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই মূল নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। মূলত আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনের কথা বিবেচনা করেই কমিশন এই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করে।
কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নাম দিয়ে 'ফুটবল খেলোয়াড়' প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের করা আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের এই অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দলের সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশের অবস্থানকে মোটেই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাছাড়া, বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে আইনসভায় বিচারাধীন থাকা অযোগ্যতা সংক্রান্ত আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও কমিশনের এমন তড়িঘড়ি নির্দেশ জারির বিষয়টিকেও আদালতের নজরে আনা হয়েছে।
দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকার হারানোর পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছিলেন। আসন্ন উপনির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীক রক্ষা ও দলীয় কর্তৃত্ব ধরে রাখার টানাপোড়েন ততই ঘনীভূত হচ্ছে। এখন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কোনো শিথিলতা বা পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই অধীর আগ্রহে নজর রাখছে গোটা রাজনৈতিক মহল।