ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নুরজাহান ভিলায় শেষবারের মতো অপ্রতিম,কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা-বাবা রাজধানীতে নাশকতার প্রস্তুতি: মগবাজারে আওয়ামী লীগের দুই নেতা আটক চিকিৎসকের অবহেলায় বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিকে ভাঙচুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকপুত্র অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন জাতীয় গ্রিডে তিতাসের ১২.৫ মিলিয়ন গ্যাস, প্রস্তুত হচ্ছে আরও ৩ কূপ ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, আপিলে যাচ্ছে প্রসিকিউশন অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি পুলিশের, আইফোন উদ্ধার চার দিনে রাফিনিয়ার জোড়া হ্যাটট্রিক, জয়রথ ছুটছে বার্সেলোনার যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ এর গোপন যন্ত্রাংশ চলে গেল চীনের হাতে মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদিকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের

জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হতেই সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ মমতা


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৩:৪৪ পিএম

ভারতের নির্বাচন কমিশনের জারি করা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের বিরুদ্ধে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐতিহ্যবাহী দলীয় নাম এবং বহুদিনের পরিচিত 'জোড়াফুল' প্রতীক ব্যবহারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের আরোপ করা স্থগিতাদেশের আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন পিটিশন দায়ের করেছেন তিনি। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দেশের শীর্ষ আদালতে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র মারফত জানা গেছে।


এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক অন্তর্বর্তী আদেশে নির্বাচন কমিশন জানায়, তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে দুটি পৃথক শিবিরের সৃষ্টি হওয়ায় দলের প্রকৃত পরিচয় ও সার্বিক কর্তৃত্ব নিয়ে আইনি বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিরোধাত্মক ইস্যুর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই মূল নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। মূলত আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনের কথা বিবেচনা করেই কমিশন এই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করে। এরপরের দিনই উভয় পক্ষের জন্য আলাদা নাম ও নতুন নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করে দেয় কমিশন।


কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নাম দিয়ে 'ফুটবল খেলোয়াড়' প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। অপরদিকে, অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে 'গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস' নামে 'খাম' প্রতীক প্রদান করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, এই বিকল্প ব্যবস্থা কেবল উপনির্বাচন পরিচালনার জন্য সাময়িকভাবে করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা জোড়াফুল প্রতীকের মূল মালিকানা নির্ধারিত হয়নি। কমিশন উভয় পক্ষের নিজ নিজ দাবি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে পৃথকভাবে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।


সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের করা আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের এই অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দলের সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশের অবস্থানকে মোটেই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তাছাড়া, বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে আইনসভায় বিচারাধীন থাকা অযোগ্যতা সংক্রান্ত আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও কমিশনের এমন তড়িঘড়ি নির্দেশ জারির বিষয়টিকেও আদালতের নজরে আনা হয়েছে।


দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকার হারানোর পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছিলেন। আসন্ন উপনির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীক রক্ষা ও দলীয় কর্তৃত্ব ধরে রাখার টানাপোড়েন ততই ঘনীভূত হচ্ছে। এখন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে কোনো শিথিলতা বা পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই অধীর আগ্রহে নজর রাখছে গোটা রাজনৈতিক মহল।


এ সম্পর্কিত আরো খবর