ফুটবল বিশ্বে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের অপ্রতিদ্বন্দ্বী আধিপত্য ধরে রেখেছেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার মাঠ থেকে মায়ামি কিংবা আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিশ্বজয়ের মুকুট—তাঁর সাফল্যের ঝুলিতে অর্জনের কোনো কমতি নেই। এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বয়সের বাধা পেরিয়ে তরুণ তুর্কিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চূড়ায় টিকে থাকার পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি এক সুশৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাস।
অথচ পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে মেসির ডায়েট চার্ট বর্তমানের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। সে সময় পিৎজা, ফাস্ট ফুড এবং কোমল পানীয় ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রিয় খাবারের তালিকায় ছিল ভাজা গরুর মাংসের মিলানেসা। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে এই অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে তাঁর শরীরে। ঘন ঘন ইনজুরিতে পড়ার পাশাপাশি ম্যাচের মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি বদলে ফেলতে ২০১৪ সালে ইতালীয় পুষ্টিবিদ জিউলিয়ানো পোসেরের শরণাপন্ন হন মেসি। এই পরিবর্তনের ফলে পরের মৌসুমেই বার্সেলোনার জার্সিতে ট্রেবল জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। পুষ্টিবিদ পোসের মেসির খাদ্যতালিকা থেকে প্রক্রিয়াজাত খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়ে নতুন ভিত্তি তৈরি করেন। তাঁর ডায়েটে প্রধান গুরুত্ব পায় পানি, জলপাইয়ের তেল, হোল গ্রেইন, তাজা ফল এবং শাকসবজি।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে কোমল পানীয়ের বদলে দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ভেষজ পানীয় ‘ইয়েরবা মাতে’ বেছে নেন মেসি। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই পানীয় তাঁর ক্লান্তি দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে। এমনকি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল নিজেদের সঙ্গে ৫০০ কেজি মাতে নিয়ে গিয়েছিল।
বার্সেলোনা ক্লাবের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মুরগির মাংসের একটি বিশেষ পদ মেসির সবচেয়ে পছন্দের। জলপাইয়ের তেল, সুগন্ধি ভেষজ, রসুন ও বিভিন্ন মূলজাতীয় সবজি দিয়ে রোস্ট করা মুরগির মাংস খেতে তিনি অত্যন্ত পছন্দ করেন।
নিয়ম মেনে চললেও মিষ্টির প্রতি দুর্বলতা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি এই খুদে জাদুকর। চকলেট, ক্যারামেলজাতীয় দুলসে দে লেচে এবং আইসক্রিমের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ রয়েছে। মাঝেসাঝে সামান্য ওয়াইন ও নিজের ব্র্যান্ডের স্পোর্টস ড্রিংক পান করেন তিনি। কঠোর শৃঙ্খলার মাঝেও এই ক্ষুদ্র আনন্দগুলোই তাঁর জীবন ও খাদ্যাভ্যাসে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখেছে।