ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৯ টেস্ট খেলে অবসরের কৌতুক অজি পেসার স্টার্কের মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পেলেন লে. জে. নোমান এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: মামা ওবায়দুর কারাগারে বিশ্বনেতাদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈরী আবহাওয়ায় ইঞ্জিন বিকল, ৫ দিন সাগরে ১৮ জেলে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করছে বিমান ১৮তম জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ: মনোনীত ২০০ বৈদেশিক বাণিজ্যে ডলারের নির্ভরতা কমাতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুথিদের কড়া হুঁশিয়ারি নানা প্রতিকূলতার মাঝেও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে সরকার: রিজভী

১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও রুম মেলেনি আরচ্যারদের: ভোগান্তি


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৫:২৭ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

জাপানে চলমান এশিয়ান গেমসে আবাসনসংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশের আরচ্যাররা। মঙ্গলবার দীর্ঘ সময় ওয়েলকাম সেন্টারে অপেক্ষা করার পর আবাসনে পৌঁছে দেখা যায়, নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় রুমের ব্যবস্থা রয়েছে অনেক কম। এর সঙ্গে খাবার, ঘুম ও বাথরুমের সমস্যাও যুক্ত হওয়ায় কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশ আরচ্যারি দলকে।


বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর রায়হান জানান, দলটি ওয়েলকাম সেন্টারে প্রায় ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছে। এরপর আবাসনে নেওয়া হলেও ১৪ জনের জন্য মাত্র চারটি রুম দেওয়া হয়। এর মধ্যে আবার সিঙ্গেল রুমও ছিল। ফলে দুই কর্মকর্তাকে শেষ পর্যন্ত আলাদা একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে হয়।


আবাসনসংকটের পাশাপাশি খাবার নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন খেলোয়াড়রা। তানভীর রায়হানের ভাষ্য, রাতে এবং পরদিন সকালে খেলোয়াড়রা ঠিকমতো খাবার পাননি। দীর্ঘ অপেক্ষা ও আবাসন জটিলতার কারণে তাঁরা পর্যাপ্ত ঘুমাতেও পারেননি। এমনকি আবাসনের বাথরুমেও পানি জমে ছিল বলে জানান তিনি।


বিষয়টি সমাধানে কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংকটের সমাধান হয়নি। বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ জানান, আবাসন কমিটি আরচ্যারির ১৬ জনের জন্য সাতটি রুম বরাদ্দ করেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি রুমে তিনজন থাকার কথা থাকলেও আয়োজকরা সেখানে দুজনের বেশি থাকতে দিতে রাজি হয়নি। দীর্ঘ আলোচনার পর দুইজনকে অন্য একটি হোটেলে নেওয়া হয়।


কর্মকর্তাদের বাদ দিলে বাংলাদেশ দলের ১৪ জন আরচ্যার ও কোচকেও রুমসংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। আরচ্যারি দলের জন্য নির্ধারিত সাতটি রুমের পরিবর্তে আয়োজকরা মাত্র চারটি রুম দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস দলের ম্যানেজার ও কোচ নিজেদের রুম ছেড়ে দেন আরচ্যারি কোচের জন্য। পরে তাঁরা ক্রুজ শিপে রাত কাটান।


এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের জন্য ক্রুজ শিপে মোট ৩১টি রুম বরাদ্দ রয়েছে। এসব রুমে সাতটি ডিসিপ্লিনের ৭৯ জনের থাকার কথা। বরাদ্দের মধ্যে ৩১টি ডাবল রুম ছাড়াও কিছু রুমে সোফা রয়েছে, যেগুলোকে বেড হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


সাধারণত গেমস শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট আবাসনের রুমগুলো শেফ দ্য মিশন কিংবা জেনারেল টিম ম্যানেজারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এবার বরাদ্দ থাকার পরও সব রুম সঠিকভাবে বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেজর ইমরোজ আহমেদ বলেন, কাবাডি দলের ৩০ জনের জন্য প্রথমে ১২টি রুম দেওয়া হয়েছিল, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। পরে তাদের রুম বাড়ানো হয়। তবে আরচ্যারির জন্য বরাদ্দকৃত রুম না পাওয়ায় সমস্যাটি তৈরি হয়েছে।


আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার রাতভর আলোচনার পর বুধবার সকালেও সংকট সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।


এতসব জটিলতার মধ্যেও প্রস্তুতিতে ছেদ পড়তে দেননি বাংলাদেশের আরচ্যাররা। আবাসনসংকট, পর্যাপ্ত ঘুম ও খাবারের সমস্যার পরও বুধবার সকালে অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন তাঁরা। প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রস্তুতি ধরে রাখাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।


এ সম্পর্কিত আরো খবর