ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো ফিফা আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ভারতের নাম প্রত্যাহারের পর তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফিফার অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। শুক্রবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এই ঐতিহাসিক যাত্রা।
আসন্ন টুর্নামেন্টকে ঘিরে জাকার্তায় বাংলাদেশ দলের মধ্যে এখন উৎসবের আবহ। কোচ থমাস ডুলির অধীনে ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রস্তুতি নিচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার জন্য। মঙ্গলবার সমিত সোম দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর পূর্ণতা পেয়েছে বাংলাদেশের দল। মাঠের লড়াইয়ের আগে খেলোয়াড়দের জাকার্তা পর্বের নানা মুহূর্তও ফুটে উঠেছে ছবিতে।
দলের অন্যতম বড় আকর্ষণ হামজা চৌধুরী। রোববার জাকার্তায় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা এই মিডফিল্ডার। তাঁর আগমনে দলের আবহে যোগ হয় বাড়তি উচ্ছ্বাস। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের হয়ে হামজার উপস্থিতি সমর্থকদের প্রত্যাশাও বাড়িয়েছে।
এরপর সোমবার গভীর রাতে দলের সঙ্গে যোগ দেন ইংল্যান্ডের বোর্হামউডের উইঙ্গার ফারহান আলী। থমাস ডুলির ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দলে নতুন মুখ হিসেবে রয়েছেন ফারহানসহ আরও দুজন। নতুন ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গড়া এই স্কোয়াড নিয়েই আসিয়ান কাপে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে চায় বাংলাদেশ।
সমিত সোমের জাকার্তা যাত্রাতেও ছিল কিছুটা অনিশ্চয়তা। সোমবার তাঁর দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও ভ্রমণ জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার জাকার্তায় পৌঁছান তিনি। দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আসিয়ান কাপে ভালো কিছু করার আশাবাদ প্রকাশ করেন এই ফুটবলার।
ভিসা জটিলতার কারণে সতীর্থদের সঙ্গে একই সময়ে জাকার্তায় যেতে পারেননি বসুন্ধরা কিংসের মিডফিল্ডার সোহেল রানা জুনিয়র। মঙ্গলবার সকালে তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেন। ফলে ধীরে ধীরে পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে প্রস্তুত হতে শুরু করে বাংলাদেশ।
জাকার্তায় পৌঁছানোর পর বিশ্রামের সুযোগও খুব বেশি পাননি খেলোয়াড়রা। হাতে থাকা অল্প সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতিতে মনোযোগী হয়েছেন হামজা, সমিতসহ দলের অন্য সদস্যরা। টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া ও সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে।
দলের নতুন মুখ ফারহান আলীর সঙ্গে সতীর্থদের আড্ডার একটি মুহূর্তও ধরা পড়েছে ছবিতে। তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন ফাহামিদুল ইসলাম, তারিক কাজী ও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। মাঠের বাইরের এমন স্বাভাবিক মুহূর্তগুলোও দলের ভেতরের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের চিত্র তুলে ধরছে।
বাংলাদেশের গোলবারের নিচে শেষ পর্যন্ত কাকে দেখা যাবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়। মিতুল মারমা, মেহেদী হাসান শ্রাবণ নাকি সুজন হোসেন—এই তিনজনের মধ্য থেকেই বেছে নেওয়া হবে গোলরক্ষক। তবে ম্যাচের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে আসিয়ান কাপের বাংলাদেশ দলকে অনেকেই দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সমিত সোমের ভাষায়, এটি একটি ‘শার্প টিম’। অভিজ্ঞতা, তারুণ্য ও প্রবাসী ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া এই দল নিয়ে জাকার্তায় তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। শুক্রবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই সেই প্রত্যাশার বাস্তব পরীক্ষা শুরু হবে।