অবসরের পূর্বঘোষণা সত্ত্বেও হুট করেই নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। একচল্লিশ বছর বয়সেও দেশের জার্সিতে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত কিছু স্বপ্ন পূরণ এবং দলের তরুণদের পথপ্রদর্শন করতেই নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার আরও দীর্ঘায়িত করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিআরসেভেন।
এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপকেই নিজের ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন রোনালদো। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা ছিল, আসন্ন বিশ্বকাপের পর আর পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যাবে না এই কিংবদন্তিকে। তবে সম্প্রতি উয়েফা নেশনস লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা সম্পূর্ণ বদলে ফেলার কথা স্পষ্ট জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো জানান, অবসরের বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে ভেবেছিলেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়নও করেন। তবে জাতীয় দলের প্রেসিডেন্ট এবং কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর তিনি মন পরিবর্তন করেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, পর্তুগাল দলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে এখনো তাঁর যথেষ্ট অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। কেবল মাঠের গোল করার দক্ষতাই নয়, বরং জাতীয় দলে সদ্য উঠে আসা উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের পাশে থেকে তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াকেও নিজের গুরুদায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তিনি।
এই দীর্ঘায়িত যাত্রার পেছনে রয়েছে পর্তুগিজ তারকার একটি সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক লক্ষ্য। পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা থেকে বর্তমানে মাত্র একুশটি গোল দূরে অবস্থান করছেন তিনি। জাতীয় দলের সামগ্রিক সাফল্য এবং নিজের এক হাজার গোলের এই স্বপ্ন—উভয়কেই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান পর্তুগালের হয়ে ২৩৩ ম্যাচ খেলা এই ফরোয়ার্ড। ফুটবলবোদ্ধাদের ধারণা, কাঙ্ক্ষিত এক হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার পরই হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চূড়ান্ত বিদায় জানাবেন এই কিংবদন্তি।