সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় একটি বড় আইনি মোড় এসেছে। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং সংসদ সদস্যের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে জামিন প্রদান করেছেন আদালত। মামলার বাদী ও নিহত মরিয়মের বাবার সঙ্গে আসামিপক্ষের আপস মীমাংসা হওয়ার পরই এই জামিন মঞ্জুর করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে এই মামলার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে আদালতের নজরে আনা হয় যে, মামলার বাদী অর্থাৎ নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আসামিপক্ষের সঙ্গে একটি পারস্পরিক সমঝোতা বা আপস মীমাংসায় পৌঁছেছেন। বাদীপক্ষের এই আপস মীমাংসার বিষয়টি লিখিতভাবে উপস্থাপনের পর জানানো হয় যে, আসামিদের জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে বাদীপক্ষের কোনো ধরনের আপত্তি নেই। উভয় পক্ষের এই সম্মতির বিষয়টি বিচারপতির কাছে তুলে ধরার পর আদালত মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি চিরকুট জব্দ করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরদিনই নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এমপি নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও বাদীপক্ষের সঙ্গে আসামিপক্ষের এই আকস্মিক আপস মীমাংসা ও জামিনের আবেদন বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিহত মরিয়মের পরিবারের সমঝোতার ভিত্তিতে পাওয়া এই জামিন আদেশের পর মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।