ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঐক্য সরকার নাকি আবার নির্বাচন? ইসরায়েলের সামনে এখন ৩টি পথ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের নতুন সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন আসামি হাজিরা ডিজিটাল করতে পারলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে: আইনমন্ত্রী ময়নাতদন্ত ছাড়া তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি সুইসাইড নয়, পরিকল্পিত হত্যাঃ পাইলট তাহসিফের বাবার বিস্ফোরক তথ্য পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ ও আধুনিক করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরও ৩০০ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, তিন উপসচিবকে ওএসডি ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় যুব মেলা স্থগিত

সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ ৫৭ জন প্রার্থীর নাম


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:১০ এএম

অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শত শত প্রার্থীর জন্য আনন্দের এই মুহূর্তটি অনেকের জন্যই হতাশা ও ক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-এর প্রাথমিক সুপারিশের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে ৬১১ জন প্রার্থীকে শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও, মেধা তালিকার প্রথম স্থান অধিকারীসহ মোট ৫৭ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত বাদ পড়ার ঘটনায় চাকরিপ্রত্যাশী ও সচেতন মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

গত বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই প্রজ্ঞাপনে শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন বিষয়ের শূন্য পদের বিপরীতে সফল প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। সে সময় শিক্ষা ক্যাডারের ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনীত করা হয়েছিল। বাকি ১৫টি পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় কাউকে সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সব যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ৫৭ জন প্রার্থীকে বাদ রেখেই অবশিষ্ট ৬১১ জনের চূড়ান্ত নিয়োগ নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

 

সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, পিএসসির সুপারিশক্রমে চূড়ান্তভাবে মনোনীত এই ৬১১ জন নতুন কর্মকর্তা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের প্রবেশ পদে যোগদান করবেন। জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী তাদের ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা বেতনক্রমে নির্ধারিত শর্তে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নবনিযুক্ত এসব শিক্ষক দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধার স্বাক্ষর রেখে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

তবে চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকা ৫৭ জনের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এই বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সোহেল রানার নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকায় বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ মেধার অধিকারী হয়েও এমন মর্যাদাপূর্ণ বিসিএসে প্রথম স্থান অধিকার করেও প্রজ্ঞাপন থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

 

চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমান প্রকাশ করে সোহেল রানা একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ধন্যবাদ, বাংলাদেশ ৪৯ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে ১ম হয়েও আমাকে গ্যাজেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য।’ তাঁর এই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। কেন বা কোন সুনির্দিষ্ট কারণে মেধা তালিকার শীর্ষস্থান অধিকারীকে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে নিয়োগবঞ্চিত অন্যান্য প্রার্থীদের মনেও চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশা কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই জটিলতার অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করবে এবং মেধাবীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর