ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

দাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত, তবু কমছে না বেকারি পণ্যের দাম


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১০:২৩ এএম

রাজধানীর বিভিন্ন ছোট-বড় টং দোকান ও লাইভ বেকারিগুলোতে পাউরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারি পণ্যের চড়া দাম বজায় রয়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে গত ১২ সেপ্টেম্বর বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্রেড, বিসকুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি আপাতত দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়। তবে মাঠপর্যায়ে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি, বরং খুচরা পর্যায়ে কোথাও কোথাও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

 

মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার পরও কেন দাম কমছে না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্রেড, বিসকুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন জানান, সরকার নির্ধারিত ও সমিতির পক্ষ থেকে নেওয়া স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। তবে বর্তমান উৎপাদন খরচ বা কস্টিংয়ের কথা বিবেচনা করে অনেক ব্যবসায়ী লোকসান এড়াতে নিজ দায়িত্বে দাম রাখছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, দোকানদাররা পণ্যের খরচ ও লাভের কথা চিন্তা করে কেউ ১০ টাকা আবার কেউ ১২ বা ১৫ টাকায় বিক্রি করছেন।

 

এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি পর্যায় থেকেই তাদের বাড়তি দামে পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্য কিনতে হচ্ছে। অনেক দোকানি অভিযোগ করে জানান, ১০ টাকার ছোট পণ্যগুলোর উৎপাদন বা সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর পরিবর্তে ১৫ টাকা দামের পণ্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে পণ্যের সাইজ ছোট হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহকদের বাড়তি ৫ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।

 

অন্যদিকে লাইভ বেকারির ব্যবসায়ীরা গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট এবং কাঁচামালের লাগামহীন দামকে পণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য দায়ী করছেন। লাইভ বেকারির এক কর্মচারী জানান, বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, এবং ছোট সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। পাশাপাশি ময়দার বস্তা ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। সার্বিক কাঁচামালের বাজার আকাশচুম্বী হওয়ায় পণ্যের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলে তাদের দাবি।

 

একাধিক ধাপে দাম বৃদ্ধি ও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ভোক্তারা চরম বিভ্রান্তি ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রাত্যহিক নাস্তায় সামান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করে পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর