ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

পাঞ্জাব সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:৩৫ পিএম

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শান্ত হিসেবে পরিচিত পাঞ্জাব সীমান্তে এক মর্মান্তিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের গুলিতে দুই নিরস্ত্র পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং এই ঘটনায় অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার অভিযোগে ভারতীয় জওয়ানরা এই গুলি চালালেও, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।


ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত শুক্রবার পাঞ্জাব সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় তিন জন পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক একটি সীমান্ত পিলারের মাত্র কয়েক ধাপের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। এই নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত হন আরও একজন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে প্রকাশ পায় যে, হতাহত ব্যক্তিরা কেউই কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করার চেষ্টা করেননি। এমনকি তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই সেখানে যাননি বলে জোর দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সীমান্ত চুক্তির একটি অত্যন্ত গুরুতর ও নগ্ন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়েছে।


অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়েছে যে, নিহত ও আহত ওই তিন পাকিস্তানি নাগরিক অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থেই জওয়ানরা প্রটোকল অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ভারতীয় মিডিয়ার দাবি। তবে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বা সুনির্দিষ্ট মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাশ্মীর সীমান্ত বা লাইন অব কন্ট্রোলের (এলওসি) সংঘাতময় পরিস্থিতির বিপরীতে পাঞ্জাব সীমান্ত সাধারণত অনেকটাই শান্ত থাকে। ফলে এই ধরনের আকস্মিক ও প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনা দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্থবির সম্পর্কে নতুন করে চরম উত্তেজনার পারদ চড়াতে পারে। এ নিয়ে পাকিস্তান সরকার এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা না দিলেও সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।



এ সম্পর্কিত আরো খবর