আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত নৃশংস গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচার কার্যক্রমে নতুন ধাপ শুরু হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আজ রোববার (৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য প্রদান করছেন মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার অসম্পন্ন জবানবন্দির বাকি অংশ রেকর্ড করা হচ্ছে।
প্রসিকিউশন পক্ষের দায়িত্বশীল প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনীত গুরুতর ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো ইতিমধ্যেই ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা পর্ব শেষ হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসামিপক্ষ চাইলে নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে। এরপরই এই মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের কাজ শুরু হবে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা বিভিন্ন আলামত ও তথ্য তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন। একই দিন মামলার ১৩তম সাক্ষী হিসেবে র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। তিনি ছিলেন এই মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ও ভয়াবহ অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগটি সংঘটিত হয় ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে; ওই দিন গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে সরাসরি জিয়াউল আহসানের উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজন ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ মোট ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে আরও ৫০ জনের প্রাণনাশের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগের এই একই সময়সীমার মধ্যে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এসব বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেওয়া হয় এবং একই দিনে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল।