সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 65
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাওয়া ২৫ পারা কোরআনের হাফেজ মো. সোহানুর রহমান (১৬) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন। সুচিকিৎসার অভাবে এবং চরম আর্থিক সংকটের কারণে তরুণ এই হাফেজের জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একমাত্র সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন তিনি। অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে হঠাৎ করেই তরুণ সোহানুরের শরীরে মারাত্মক ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার দুর্বিষহ বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই। দীর্ঘ তিন বছর ধরে দফায় দফায় চিকিৎসা চালাতে গিয়ে ভিটেমাটি ও সহায়-সম্বল সব বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তার কৃষক বাবা মো. নজরুল ইসলাম। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা চললেও রোগ পুরোপুরি নিরাময় না হওয়ায় চিকিৎসকরা শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তার বাম পা কেটে বাদ দেন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, পরবর্তী থেরাপি ও প্রয়োজনীয় দামি ওষুধ কেনার মতো বিন্দুমাত্র আর্থিক সামর্থ্যও এখন আর এই পরিবারের নেই। টাকার অভাবে বর্তমানে তার জীবনরক্ষাকারী সব ধরনের চিকিৎসা পুরোপুরি থমকে গেছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে চরম যন্ত্রণায় দিন কাটছে এই মেধাবী তরুণের।
ছেলের এমন করুণ পরিণতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা সূর্য খাতুন। আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার একমাত্র নাড়িছেঁড়া ধন শুধু বেঁচে থাকতে চায়। জমিজমা যা ছিল সব বেচে ছেলের পেছনে শেষ করেছি। এখন ওষুধ কিনে দেওয়ার মতো কোনো টাকাই হাতে নেই। আপনাদের সামান্য সহযোগিতায় হয়তো আমার সোনা মানিকটা সুস্থ হয়ে উঠবে।”
অসহায় বাবা মো. নজরুল ইসলাম কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, “একমাত্র ছেলেকে চোখের সামনে তিলে তিলে শেষ হতে দেখছি, কিন্তু বাবা হয়েও কিছু করতে পারছি না। পা তো হারিয়েছেই, এখন জীবনটাই না চলে যায় সেই ভয়ে দিন কাটছে। ডাক্তাররা বলছেন চিকিৎসা চালালে সে ভালো হতে পারে, কিন্তু সেই সামর্থ্য আমার আর নেই। সমাজের বিত্তবান ভাইদের কাছে আকুল আবেদন, আপনারা একটু আমার ছেলেটার পাশে দাঁড়ান।”
কোরআনের হাফেজ তরুণ সোহানুরের জীবন রক্ষার্থে এবং তার উন্নত চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে দেশের সকল দাতা ও সহৃদয় ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।