ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬,  ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ অর্থাভাবে বন্ধ চিকিৎসা: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তরুণ হাফেজ সোহানুর ঢাকার যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক হত্যা: কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বহর আধুনিকায়নে ১০টি এয়ারবাস ক্রয়ে চুক্তি সই করছে বিমান উপকূলীয় ১৪ জেলার সুরক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জুনের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ঘালিবাফ প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর ভিসায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার হবিগঞ্জের গৃহবধূ


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৫:১৮ পিএম

দালালের প্রলোভনে পড়ে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে চরম অমানুষিক নির্যাতন, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার মর্মান্তিক অভিযোগ করেছেন রেহেনা খাতুন নামে এক বাংলাদেশি গৃহবধূ। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের জেদ্দার আলহাদা এলাকার একটি বাসায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমানো এই নারী এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সৌদি আরব থেকে গোপনে একটি ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে নিজের চরম দুর্দশার কথা জানান রেহেনা। ভিডিওবার্তায় তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমি জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছি। আমাকে নানাভাবে চাপ ও কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অসুস্থ। মনে হচ্ছে, বাঁচব না। বেতন-ভাতাও দেওয়া হচ্ছে না। আমাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।” হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা আলী আহমদের স্ত্রী তিনি।


পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর থেকেই রেহেনাকে দিয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো হচ্ছে এবং নিয়মিত কোনো বেতন দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথও প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী দেশে ফিরে আসতে চাইলে দালাল চক্র তাঁর পরিবারের কাছে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ বা খরচ দাবি করছে। অসহায় স্বামী আলী আহমদ তাঁর স্ত্রীকে সুস্থ শরীরে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর নেপথ্যে জড়িত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মোকন্দপুরের বামুটিয়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিন। অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, কিছু খরচাপাতি দিলে তাকে ফিরিয়ে আনানো সম্ভব, কারণ চাইলেই সৌদি আরব থেকে হুট করে চলে আসা যায় না। অন্যদিকে, ঢাকার ফকিরাপুলের রিক্রুটিং এজেন্সি ‘জেনিয়া ওভারসিজ’-এর কর্মকর্তা হাসান মিয়া সমস্ত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে ওই নারী কোনো শারীরিক নির্যাতনের শিকার হননি এবং দেশে ফিরতে চাইলে এজেন্সি নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও খরচ পরিশোধ করতে হবে।


এই অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে রেহেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল ও এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তাঁর পরিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।


এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপসহকারী পরিচালক মালেকা বেগম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি আবেদন হাতে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে এবং সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে ওই গৃহবধূকে নিরাপদে দেশে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর