ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬,  ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ অর্থাভাবে বন্ধ চিকিৎসা: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তরুণ হাফেজ সোহানুর ঢাকার যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক হত্যা: কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বহর আধুনিকায়নে ১০টি এয়ারবাস ক্রয়ে চুক্তি সই করছে বিমান উপকূলীয় ১৪ জেলার সুরক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জুনের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ঘালিবাফ প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগামী ৭ অক্টোবর

বহর আধুনিকায়নে ১০টি এয়ারবাস ক্রয়ে চুক্তি সই করছে বিমান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:৪৯ পিএম

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ১০টি আধুনিক এয়ারবাস উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য আগামী ৭ অক্টোবর একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর অভিজাত হোটেল র‍্যাডিসনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সম্পন্ন হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চুক্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এর সাক্ষী হবেন।


নতুন এই চুক্তির আওতায় বিমান বহরে যুক্ত হবে মোট ১০টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে চারটি সুপরিসর এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি মাঝারি দূরত্বের এয়ারবাস এ৩২১নিও। দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটগুলোর যাত্রী চাহিদা মেটানোর জন্য এ৩৫০-৯০০ মডেলের ওয়াইড-বডি বিমানগুলো অত্যন্ত উপযোগী হবে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের গন্তব্যগুলোতে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে এ৩২১নিও ন্যারো-বডি বিমানগুলো ব্যবহার করা হবে, যা পরিচালনা ব্যয় সাশ্রয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এর আগে জানিয়েছেন যে, এয়ারবাসগুলোর বাণিজ্যিক সরবরাহ ২০৩৩ সাল নাগাদ শুরু হতে পারে এবং তা ২০৩৬ কিংবা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এই মেগা চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিমানের বহরে এক নতুন কৌশলগত পরিবর্তন আসছে। এতদিন বিমানের বহরে মূলত মার্কিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের উড়োজাহাজের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও, এই চুক্তির ফলে বিমান বোয়িং ও এয়ারবাস—উভয় শীর্ষস্থানীয় নির্মাতার উড়োজাহাজের সমন্বয়ে একটি মিশ্র বহর হিসেবে পরিচালিত হবে। এর আগে বিমান মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল, যার মধ্যে ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এয়ারবাসের ১০টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহরে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজের মোট সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৩৫টিতে। এর মধ্যে ১৯টি হবে ওয়াইড-বডি এবং ১৬টি ন্যারো-বডি বিমান।


নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজগুলো পুরোপুরি হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বা স্বল্পমেয়াদে বাজারের চাহিদা মেটাতে বিমান লিজ বা ভাড়ার ভিত্তিতে উড়োজাহাজ পরিচালনার বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। ৭ অক্টোবরের এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বিমানের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত যাত্রীসেবা প্রদানে সংস্থাটির সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর