বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প আগামী অর্থবছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হবে। এই প্রকল্পের সার্বিক রূপরেখা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আজ রবিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে (Jean Pesme)-এর নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মূলত ‘Bangladesh Strategic Flood Resilience Program (Flood MPA)’ এবং ‘Coastal Resilience Project’-এর আওতায় চলমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে উপকূলীয় এলাকার সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করা। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি তাদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। বিশেষ করে উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিধান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় এই প্রকল্প একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।
প্রকল্পের নানা কৌশলগত দিক তুলে ধরে জানানো হয় যে, উপকূলীয় চৌদ্দটি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসে এই তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হবে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা লবণাক্ততার প্রভাব মোকাবিলায় পানি শোধন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে এই প্রকল্পে। এর পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপকূলীয় জনপদের উন্নয়নে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। অর্থনৈতিক ও জলবায়ু বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাংকের এই বিশাল বিনিয়োগ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং বাংলাদেশকে জলবায়ু সহনশীল একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে দারুণভাবে সহায়তা করবে।