ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬,  ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ অর্থাভাবে বন্ধ চিকিৎসা: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তরুণ হাফেজ সোহানুর ঢাকার যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক হত্যা: কিশোরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর বহর আধুনিকায়নে ১০টি এয়ারবাস ক্রয়ে চুক্তি সই করছে বিমান উপকূলীয় ১৪ জেলার সুরক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জুনের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ঘালিবাফ প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৭:৫৩ পিএম

দেশের প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশনের জন্য সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। নিরাপদ, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল সোমবার ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি আধুনিক ও পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ার এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের মূল প্রতিপাদ্য—‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত এবারের স্লোগান ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’ বর্তমান জনমিতি ও নগরায়নের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদার এই যুগে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।


রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলো যেভাবে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, তাতে তীব্র যানজট, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা এবং জলবায়ুজনিত অভিবাসনের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব জটিল সমস্যা সফলভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তিবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। বিশেষ করে বস্তিবাসী মানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত আবাসনের মালিকানা অর্জনের আইনি সুযোগ সৃষ্টি এবং আধুনিক পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন।


প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় জানান, সরকার আবাসনকে কেবল একটি নির্দিষ্ট ছাদের নিচে বসবাস হিসেবে দেখছে না; বরং একে নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবার একটি সমন্বিত নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। এর পাশাপাশি সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও সুষম নগর উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


তবে টেকসই আবাসন ও উন্নত নগরায়ন নিশ্চিত করার এই বিশাল দায়িত্ব কেবল সরকারের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি দেশের বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, এনজিও, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারি-প্রাইভেট অংশীদারি বা পিপিপি মডেল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যেখানে নগর ও গ্রাম নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন, প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা এবং সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক এবং বাসযোগ্য দেশ গড়ার এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর