দেশের বাজারে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম ফের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই মূল্যতালিকা ঘোষণা করেছে। নতুন এই নির্ধারিত দাম রোববার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে। এর ফলে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিইআরসির নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ২১ টাকা বাড়িয়ে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এর আগে ১৩২ টাকা ১২ পয়সা ছিল। প্রতি কেজির দাম বৃদ্ধির এই সরাসরি প্রভাবে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পূর্বে ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রি হওয়া এই সিলিন্ডারের নতুন খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর আগে গত মাসে এলপিজির দাম সামান্য হ্রাস পেলেও চলতি মাসে এসে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্যবৃদ্ধি এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আরামকোর প্রকাশিত সৌদি কার্গো মূল্য বা সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে বিইআরসি প্রতি মাসে দেশের বাজারে এলপিজির এই দাম সমন্বয় করে থাকে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের মূল অভিযোগ হলো, নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে বরাবরই বাড়তি মূল্যে গ্যাস কিনতে বাধ্য হতে হয়। গত তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে চাহিদার তুলনায় এলপিজির সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্দিষ্ট দামের চেয়েও অতিরিক্ত ৫শ থেকে ৮শ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অনেক পরিবারই রান্নার বিকল্প মাধ্যম ছেড়ে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা তাদের দৈনন্দিন খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এদিকে বেসরকারি খাতের সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেলেও সরকারি কোম্পানির সরবরাহকৃত সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডারের পূর্বনির্ধারিত ৮২৫ টাকা মূল্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোটর যানবাহনে বহুল ব্যবহৃত অটো গ্যাসের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অটো গ্যাস এখন ৭৩ টাকা ৯ পয়সার পরিবর্তে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সায় বিক্রি হবে। ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে বিইআরসি নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে এলপিজির এই মূল্য নির্ধারণ ও সমন্বয় করে আসছে। তবে বাজারে কঠোর মনিটরিং ও তদারকি না থাকায় সাধারণ ভোক্তারা নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি গ্যাস সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।