ফিলিস্তিনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় চরম নিপীড়ন, বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে সার্বীয় অর্থোডক্স চার্চ। ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক খ্রিষ্টান উপস্থিতি ধ্বংস বা প্রান্তিক করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে সার্বীয় প্যাট্রিয়ার্ক পোরফিরিজে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা রামজি খৌরিকে পাঠানো এক বিশেষ চিঠিতে চার্চের পক্ষ থেকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সার্বীয় প্যাট্রিয়ার্ক পোরফিরিজে বলেন, ধর্ম বা পটভূমি নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের এই অব্যাহত ভোগান্তি ও নিপীড়ন মানুষের মৌলিক মর্যাদার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফিলিস্তিনে খ্রিষ্টানরা দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে আসছে এবং তারা এই অঞ্চলের দীর্ঘ ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়কে প্রান্তিক বা বর্জন করার চেষ্টা করলে তা ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির কাঠামোকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক আইন এবং সব মানুষের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জোরালো দাবি জানিয়েছে চার্চটি।
প্যাট্রিয়ার্ক পোরফিরিজে আরও জানান, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ও অধিকারের বিষয়টি তারা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরবেন। উল্লেখ্য, রামজি খৌরি ফিলিস্তিনি লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ফিলিস্তিনে গির্জা বিষয়ক উচ্চ রাষ্ট্রীয় কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ফিলিস্তিনি কমিটি অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় ও উপাসনালয়গুলোতে হামলা, উপাসনা ও শিক্ষার ওপর নানামুখী নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
এদিকে এই সহিংসতার প্রভাব গাজা উপত্যকাতেও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। গত শনিবার সকালে গাজায় সংঘটিত হামলায় চার নারীসহ মোট পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনুসারী ছিলেন। সার্বীয় অর্থোডক্স চার্চের এই জোরালো অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি