নেপাল ও চীন সীমান্ত অঞ্চলে প্রলয়ংকরী বন্যা ও ভূমিধসের দীর্ঘ ৩৭ দিন পর এক অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। নিখোঁজ ডজন ডজন মালয়েশিয়ান পর্যটকের মধ্যে একজনকে অবশেষে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা ওই পর্যটক সম্প্রতি নিরাপده নিজের দেশে ফিরে গেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ বা মাসফি-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম একটি বিশেষ বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর ও স্বস্তিদায়ক খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নেপাল ভ্রমণে গিয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়া ওই নাগরিক সম্প্রতি রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত মালয়েশিয়ার দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের সুস্থতা ও সুরক্ষার কথা নিশ্চিত করেন। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রায় দেড় মাস পর নিখোঁজ কোনো পর্যটকের এভাবে অলৌকিক বেঁচে ফেরার ঘটনায় অন্য নিখোঁজ পরিবারগুলোর মনে নতুন করে আশা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপসংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, লাংটাং লিরুং পর্বতে সংঘটিত হিমবাহ ও বরফ ধসের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এর ফলে সৃষ্ট কম্পন ৫.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল। এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ে নেপাল এবং সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে এক হাজার চারশতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনো পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, নেপালে বিধ্বংসী বন্যার পর কাঠমান্ডু দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া অন্তত ৫৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
মাসফির মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম আরও জানান, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে—অর্থাৎ ঠিক বন্যার আগের দিন—ওই পর্যটক নাগথালি ভিউপয়েন্টে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে স্থানীয় রাস্তাঘাট ও সেতুগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায়, পাশাপাশি তীব্র বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সংকটের কারণে তিনি ওই দুর্গম অঞ্চলে আটকা পড়েছিলেন।
এদিকে সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নেপালের পর্যটন দপ্তরের গত ১৭ সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ত্রিশটিরও বেশি দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের এই দীর্ঘ তালিকায় ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৫৪ জন মালয়েশিয়ান এবং ৩৭ জন চীনা নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট