ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

হুতি হামলার মুখে সৌদি আরবে সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:৩৩ এএম

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ধারাবাহিক ও তীব্র হামলার মুখে সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় সৌদি ভূখণ্ডে দ্রুত সামরিক বাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান।

 

বিদেশি সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি রিয়াদে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই সামরিক বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এর আগে গত আগস্ট মাসে এই তিন দেশের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল বিধান অনুযায়ী, এই ত্রিদেশীয় জোটের যেকোনো একটি রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সেটিকে সম্মিলিতভাবে তিন দেশের ওপরই আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে সর্বাত্মক সামরিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।

 

এই চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি তুরস্ক, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শক্তি সৌদি আরব একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোর নিচে এসেছে। সোমবারের জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক হামলা এবং বিশেষ করে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি ইরান-সমর্থিত হুতিদের নাম উল্লেখ করা না হলেও তিন দেশ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির স্পষ্ট বিরোধিতা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সরবরাহের ব্যবস্থা করার বিষয়ে তারা একমত হয়েছে। সৌদি আরবে এসব বাহিনী দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়েও সম্মত হয়েছে দেশগুলো। তবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মোতায়েন করা সেনারা ঠিক কী ধরনের দায়িত্ব পালন করবে, যৌথ বিবৃতিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

 

এদিকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, তেল স্থাপনা ও জাহাজে বারবার হামলা চালিয়ে আসছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। মূলত গত জুলাই থেকে ইয়েমেনের সংঘাত আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এরপর সেপ্টেম্বরে হুতিরা নতুন করে অভিযান শুরু করে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর জবাবে সোমবার সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়ে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেন সরকার। হুতিদের দখলে থাকা সব এলাকা পুনরুদ্ধার করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য, যার কিছু অংশ দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। (সূত্র: গালফ নিউজ)


এ সম্পর্কিত আরো খবর