ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬,  ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা ও ইয়েমেনে তীব্র সংঘর্ষ উত্তরপত্র গায়েবের ঘটনায় উত্তাল ইবি: তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের মধ্যপ্রাচ্য সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম ২০০ ডলারে ওঠার আশঙ্কা রামেবি ভিসি ও পিএসকে লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র আদায়ের অভিযোগ নার্সিং সেক্টরে ফ্যাসিবাদের প্রশ্রয়দাতা ন্যাবের ‘অঘোষিত সভানেত্রী’ বিলকিস জাহান শত শত স্কুল ব্লকেড করে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ দেশে একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় জনের মৃত্যু

নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৭:৩৭ পিএম

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে এক অনির্ধারিত সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নানা সমীকরণ ও অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিবিসিকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ে ঢাকার বর্তমান মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতেই মূলত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এই হঠাৎ দিল্লি সফর। এর আগে গত সোমবার রাতের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছেড়ে দিল্লিতে গিয়ে পৌঁছান তিনি। তবে এই উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠক নিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।


স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ৫৫ বছরের কূটনৈতিক ইতিহাসে দীনেশ ত্রিবেদী হলেন প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রদূত, যাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং যার নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে ভারতের খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও)। এই বিশেষ পটভূমির কারণে তিনি দিল্লিতে গেলে সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকদের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত রিপোর্ট না করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ ও আলোচনা করেন। এবারের সফরেও সেই প্রথা ও রেওয়াজের কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি।


বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বেশ কিছু অমীমাংসিত ও সংবেদনশীল বিষয় ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর। এই সফর নিয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে কিছু প্রাথমিক আলোচনা এগিয়ে গেলেও তা এখনো চূড়ান্ত রূপ লাভ করেনি। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার (প্রত্যর্পণ) বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানানো হলেও দিল্লি এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দেখায়নি, যা দুই দেশের সম্পর্কে এক প্রকার অস্বস্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে রয়েছে।


পাশাপাশি, আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হতে চলেছে ৩০ বছর মেয়াদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি। এই ঐতিহাসিক চুক্তির নবায়ন ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে দুই সরকারের মধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। এমন এক জটিল ও সন্ধিক্ষণে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন কোনো মোড় দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বিবিসি


এ সম্পর্কিত আরো খবর