দেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অংশ নার্সিং সেক্টরে বিগত সরকারের দোসর ও ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসরদের পুনর্বাসন এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তাদের প্রশ্রয় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব)-এর নিজেকে অঘোষিত সভানেত্রী দাবি করা বিলকিস জাহানের বিরুদ্ধে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও একটি বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায় তিনি নার্সিং সেক্টরে নানা বিতর্কিত ও দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রকৃত বিএনপি সমর্থিত নার্স ও পেশাজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকেই বিলকিস জাহান নিজেকে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব)-এর সভানেত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইন্সটিটিউট, মেডিকেল কলেজ ও সরকারি হাসপাতালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (স্বানাপ) এবং বঙ্গবন্ধু নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের বিতর্কিত ও ফ্যাসিবাদের দোসর নার্সদের মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি কেবল প্রশ্রয়ই দিচ্ছেন না, বরং তাদের বিরুদ্ধে আনীত বদলির আদেশ ঠেকানো থেকে শুরু করে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নানা অনৈতিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে আওয়ামীপন্থী ও ফ্যাসিবাদের দোসর নার্সদের সামনের সারিতে রেখে মহড়া দেওয়া এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ আরও রয়েছে যে, বিলকিস জাহান মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের ‘স্বানাপ’-এর সভানেত্রী সানোয়ারা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা আক্তারসহ তাদের অনুসারী লোকজনকে নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকেন। পরবর্তীতে এই চক্রের সদস্যদের রাতারাতি বিএনপি সমর্থিত নার্স হিসেবে পরিচয় দেওয়ার জন্য নানামুখী অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান), শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং মিটফোর্ড হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে স্বানাপ সমর্থিত নার্সদের জড়ো করে নেতাদের সামনে নিজেদের লোকসংখ্যা বেশি দেখানোর উদ্দেশ্যে দলীয় কর্মসূচিতে ব্যবহার করে আসছেন তিনি। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকটি হাসপাতালে বিতর্কিত স্বানাপ নেতাদের দিয়ে মনগড়া কমিটি ঘোষণা করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিলকিস জাহানের এমন বিতর্কিত ও দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে নার্সিং সেক্টরের তৃণমূল থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের প্রকৃত বিএনপি সমর্থিত আদর্শিক নার্স ও পেশাজীবী নেতারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তাদের একটাই দাবি, অবিলম্বে এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে নার্সিং সেক্টর থেকে স্থায়ীভাবে বিতাড়িত ও বয়কট করা হোক। কারণ তিনি নিজের ব্যক্তিগত ও আর্থিক স্বার্থে পুরো নার্সিং খাতকে ধ্বংসের চরম দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন।
সার্বিক বিষয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব)-এর অনুমোদিত সভানেত্রী জাহানারা সিদ্দিকীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমাদের মূল কমিটি ২০০৩ সালে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে বিলকিস জাহান মৌখিকভাবে আওয়ামী লীগের লোকজন ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিয়ে একটি অবৈধ কমিটি ঘোষণা করেন। গুলশান অফিসে পেশাজীবীদের বিভিন্ন মিটিংয়ে আমাদের দলীয়ভাবে ডাকা হলেও বিলকিস জাহানের ওই কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের প্রতিটি দলীয় ও পেশাজীবী কার্যক্রমে বিএনপির সম্মানিত জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সশরীরে উপস্থিত থাকেন। সুতরাং ভুঁইফোড় ও অবৈধ কোনো কমিটির প্রশ্রয়দাতাদের দল বা পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।"