দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন রোগী। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যাণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১৪৮ জন, যা এ বছরের মাসিক মৃত্যুর তালিকায় সর্বোচ্চ। এছাড়া চলতি অক্টোবরের প্রথম পাঁচ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬ জন। এর বাইরে আগস্ট মাসে ৪৩ জন, জুলাই মাসে ৩৬ জন, জুন মাসে ১৩ জন, মে মাসে ১ জন এবং বছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে মোট চারজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বছরের এই সময়ে এসে ডেঙ্গুর এমন তীব্রতা জনমনে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সোমবার সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৯৯৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৩৫৬ জনে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৮৪ হাজার ২৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজগৃহে ফিরে গেছেন, যা চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টার ফল।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি হার সবচেয়ে বেশি রেকর্ড করা হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে একদিনেই ৮৬১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪২ জন, বরিশাল বিভাগে ২০৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ জন এবং রংপুর বিভাগে ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই ডেঙ্গুর এই বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, বরং মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বিশেষ করে জমে থাকা পরিষ্কার পানি বা ডাবের খোসা, ফুলের টব কিংবা ছাদের ড্রেনে নিয়মিত পরিষ্কার করে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত ফগিং ও মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে সাধারণ মানুষকে এই ভয়াল ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।