ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬,  ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা ও ইয়েমেনে তীব্র সংঘর্ষ উত্তরপত্র গায়েবের ঘটনায় উত্তাল ইবি: তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের মধ্যপ্রাচ্য সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম ২০০ ডলারে ওঠার আশঙ্কা রামেবি ভিসি ও পিএসকে লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্র আদায়ের অভিযোগ নার্সিং সেক্টরে ফ্যাসিবাদের প্রশ্রয়দাতা ন্যাবের ‘অঘোষিত সভানেত্রী’ বিলকিস জাহান শত শত স্কুল ব্লকেড করে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ দেশে একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় জনের মৃত্যু

উত্তরপত্র গায়েবের ঘটনায় উত্তাল ইবি: তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৭:২৫ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেমিস্টার পরীক্ষার উত্তরপত্র রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের পরীক্ষা-২০২৫-এর ২১০৭ নম্বর কোর্সের দ্বিতীয় পরীক্ষকের উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ার এই অনভিপ্রেত ও নজিরবিহীন ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই তদন্ত কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন ত্বরিত ও কঠোর পদক্ষেপে ক্যাম্পজুড়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ফলাফলের অনিশ্চয়তা দূর করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রাপ্ত অফিস আদেশ অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট এই বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আয়নুল হক আকন্দ। এছাড়া তদন্ত কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ ও গতিশীল ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে। আর এই তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামরুজ্জামান।


অফিস আদেশে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, গঠিত এই তদন্ত কমিটি সার্বিক বিষয়ে অত্যন্ত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত পরিচালনা করবে। তদন্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করে আগামী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। মূলত এই তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপরই সংশ্লিষ্ট কোর্সের ফলাফল প্রকাশের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে।


ঘটনার নেপথ্যের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় জানা যায়, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ২১০৭ নম্বর কোর্সের ৬০টিরও বেশি মূল্যবান উত্তরপত্র হঠাৎ করেই রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়। বিভাগীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উক্ত কোর্সের ইন্টারনাল পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলম গত ১১ মে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্রগুলো নিজ দায়িত্বে গ্রহণ করেছিলেন। এরপর বিভাগীয় নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনে গত ২০ মে তিনি ওই উত্তরপত্রগুলো নিজ বিভাগে জমা দেন বলে দাবি করেন।


এরপর এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিভাগীয় কর্মচারী জাবেদ আলী দাবি করেন যে, তিনি নিয়ম অনুযায়ী উত্তরপত্রগুলো গ্রহণ করার পর কোর্সের দ্বিতীয় পরীক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের নিকট তা যথাযথভাবে হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু অন্যদিকে সম্পূর্ণ বিপরীত ও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য। তার স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচ্য উত্তরপত্রগুলো কখনোই তার নিকট এসে পৌঁছায়নি বা তিনি সেগুলোর বিষয়ে কোনো কিছু অবগত নন। এভাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে উত্তরপত্র নিখোঁজের এই ঘটনাটি আরও বেশি রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, গোপনীয় ও গুরুদায়িত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ৬০টির বেশি উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে অ্যাকাডেমিক শৃঙ্খলার বড় ধরনের ব্যত্যয় হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও তাদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকটের সমাধান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কার বা কাদের গাফিলতির চিত্র ফুটে ওঠে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর