ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬,  ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, অতঃপর... আইরিশ কোচের গায়ে থুতু দেওয়ার অভিযোগ ইসরায়েলি ফুটবলারের বিরুদ্ধে ফ্লাইদুবাই হামলা: সহ-পাইলটের অস্ট্রেলিয়া সংযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ নতুন পে স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ শারদীয় দুর্গোৎসবে সুখবর: মিলছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শহীদ সেনার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত ৪ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোট অর্থহীন: দীপকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফতুল্লায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা, জনতার ইটপাটকেলে ওসি আহত

হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, অতঃপর...


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:৩৪ পিএম

মাঝরাতে এক অবিশ্বাস্য ও লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল। হলের একটি আবাসিক ভবনের নবম তলা থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েও অলৌকিক উপায়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। নিচে থাকা একটি টিনশেড ঘরের চালের ওপর গিয়ে পড়ায় বড় ধরনের শারীরিক আঘাত বা প্রাণহানির হাত থেকে সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পান তিনি। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


গত রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সন্তোষ ভবনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহত ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। ঘটনার পরপরই হলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহপাঠীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। সোমবার বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা তাঁর পাশে রয়েছেন। তাঁর একটি পা কিছুটা ফুলে গেছে এবং মাথায় সামান্য আঘাতের কারণে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত ও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছেন এবং সবার সঙ্গে কথা বলছেন।


চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জগন্নাথ হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পল্লব বর্মন জানান, ওই শিক্ষার্থীর এক্স-রে, ইসিজি ও এমআরআইসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক এসেছে এবং তাঁর শরীরের কোথাও কোনো হাড় ভাঙার ঘটনা ঘটেনি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হলের কর্মচারীরা জানান, গভীর রাতে হলের ভবনের পাশ থেকে হঠাৎ বিকট একটি শব্দ পেয়ে তাঁরা বাইরে ছুটে আসেন এবং টিনশেড ঘরের চালে তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। সরাসরি পাকা রাস্তায় বা মাটিতে না পড়ে টিনের চালে পড়ায় তাঁর জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


কেন ওই শিক্ষার্থী এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, সে বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিকভাবে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো না হলেও সহপাঠী ও হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ব্যক্তিগত কিছু বিষয় ও মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল জানান, “আমরা শুনেছি, ব্যক্তিগত কিছু কারণ ও মানসিক চাপ থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই শিক্ষার্থী পুরোপুরি সুস্থ হলে তাঁর কাছ থেকেই সম্পূর্ণ ঘটনা জানা যাবে।” বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি প্রশাসন নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর