ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬,  ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, অতঃপর... আইরিশ কোচের গায়ে থুতু দেওয়ার অভিযোগ ইসরায়েলি ফুটবলারের বিরুদ্ধে ফ্লাইদুবাই হামলা: সহ-পাইলটের অস্ট্রেলিয়া সংযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ নতুন পে স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ শারদীয় দুর্গোৎসবে সুখবর: মিলছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শহীদ সেনার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত ৪ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোট অর্থহীন: দীপকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফতুল্লায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা, জনতার ইটপাটকেলে ওসি আহত

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোট অর্থহীন: দীপকে


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৬:৩৮ পিএম

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদে বহাল থাকা অবস্থায় আগামী কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। মহারাষ্ট্রের পুণে শহরে চলমান চাকরিপ্রার্থীদের এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তার মতে, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনগুলোর অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে এবং এসব ভোটের ফলাফল ইতিমধ্যে পূর্বনির্ধারিত থাকতে পারে।


মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের (এমপিএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া এবং ব্যাপক অনিয়মের প্রতিবাদে পুণেতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এই আন্দোলনকারীদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করতে গিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার নিজ পদ থেকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং দেশে প্রকৃত অর্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন এক প্রহসন মাত্র। বর্তমান নির্বাচনী কাঠামোর সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ভোটের আগেই ফলাফলের একটি পূর্বধারণা তৈরি হয়ে থাকে এবং বিজয়ী প্রার্থীরা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


আলোচনার একপর্যায়ে ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের এমন কিছু রাজ্যেও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নির্বাচনে জয়লাভ করছে, যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তার সময়েও দলটি জয়ের মুখ দেখেনি। এসব নির্বাচনী ফলাফলের সত্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেন এই রাজনীতিবিদ।


উল্লেখ্য, পুণেতে মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের চাকরিপ্রার্থীদের চলমান এই আন্দোলনে শুরু থেকেই জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বারবার ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে তারা মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।


এই ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের (এনসিপি) প্রবীণ নেতা রোহিত পাওয়ার। তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। ওই বার্তায় তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের সমস্ত পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের পাশে তিনি সবসময় অকুণ্ঠভাবে রয়েছেন। তাঁর তথ্যমতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই ধারাবাহিক ও লজ্জাজনক ঘটনায় বর্তমানে ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।


আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র লোকসেবা কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যানের অবিলম্বে পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিটি অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা। অভিজিৎ দীপকে জানান, এসব যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তরুণ সমাজ ও চাকরিপ্রার্থীরা রাজপথে অনড় অবস্থান নিয়েছে।


এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে ভারতের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং দেশের সচেতন নাগরিক সমাজের বড় একটি অংশ অনেক আগে থেকেই গভীর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন পরিচালনার পুরো পদ্ধতি নিয়ে নানা বিতর্ক ও অসন্তোষ রয়েছে। এর মধ্যে অভিজিৎ দীপকের সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের এই জোরালো দাবি ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার ঝড় তুলেছে। তবে পুণেতে দেওয়া দীপকের এসব তীব্র অভিযোগ এবং পদত্যাগের দাবির বিষয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন কিংবা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর