ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬,  ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, অতঃপর... আইরিশ কোচের গায়ে থুতু দেওয়ার অভিযোগ ইসরায়েলি ফুটবলারের বিরুদ্ধে ফ্লাইদুবাই হামলা: সহ-পাইলটের অস্ট্রেলিয়া সংযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ নতুন পে স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ শারদীয় দুর্গোৎসবে সুখবর: মিলছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শহীদ সেনার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত ৪ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোট অর্থহীন: দীপকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফতুল্লায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা, জনতার ইটপাটকেলে ওসি আহত

ফ্লাইদুবাই হামলা: সহ-পাইলটের অস্ট্রেলিয়া সংযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৯:১৪ পিএম

মধ্য আকাশে ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইনসের একটি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ককপিটের ভেতরে আকস্মিক রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ওমানি সহ-পাইলটের পুরোনো অস্ট্রেলিয়া সংযোগ নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলা এই পাইলটের মেলবোর্নভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ইতিহাস, অতীত জীবন এবং এর পেছনে কোনো গভীর সন্ত্রাসবাদী বা উগ্রপন্থী যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে অস্ট্রেলীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ‘এফজেড ১০৭৩’ নম্বরের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের বিলাসবহুল উড়োজাহাজটি যখন নির্ধারিত রুট ধরে মাঝআকাশে উড়ছিল, ঠিক তখনই সেখানে চরম নাটকীয় ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ফ্লাইটটির সংবেদনশীল ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের উদ্ধারকারী কুড়াল দিয়ে প্রধান পাইলটের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালান সহকারী পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি। উড়োজাহাজটিতে থাকা মোট ১৭৪ জন নিরীহ যাত্রী এবং দায়িত্বরত ক্রু সদস্যের জীবন তখন সেকেন্ডের ব্যবধানে মৃত্যুর মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। তবে চরম সাহসিকতা, অসামান্য মানসিক দৃঢ়তা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে বিমানের সাহসী যাত্রীরা এবং পরবর্তীতে যাত্রীবেশে ফ্লাইটে উপস্থিত থাকা আরও দুজন অভিজ্ঞ পাইলট দ্রুত একত্রিত হয়ে ওই হামলাকারী সহ-পাইলটকে কোনোমতে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হন। তাদের এই সময়োপযোগী ও তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় এবং উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।


এই আন্তর্জাতিক চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরই অভিযুক্ত হামলাকারীর পরিচয় বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয়। ২৯ বছর বয়সী হাম্মাম আল-হাম্মামি ওমানের নাগরিক হলেও তার অতীত জীবন এবং অস্ট্রেলিয়া সংযোগ নিয়ে রহস্যের জাল আরও ঘনীভূত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় পুলিশ বা এএফপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, দেশটির বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা এবং ভিক্টোরিয়া রাজ্য পুলিশের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী দল যৌথভাবে ঘটনার নেপথ্যে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী বা স্থানীয় ষড়যন্ত্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে জোরেশোরে মাঠে নেমেছে।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত নথিপত্র এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে যে, ২০১৪ সালে একটি বৈধ শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছিলেন এই হাম্মাম। পরবর্তীতে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি মেলবোর্নে বসবাস করেন এবং তার অস্ট্রেলীয় ছাত্রজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে ২০১৯ সালে, যখন তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া তথ্য অনুসারে, তিনি মেলবোর্নের স্বনামধন্য ও মর্যাদাপূর্ণ আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশলবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তবে চলমান এই উচ্চপর্যায়ের পুলিশি তদন্তের স্বার্থে আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো মহল থেকে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে বা মুখ খুলতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।


এদিকে, ফ্লাইদুবাইয়ের মতো একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে এমন নজিরবিহীন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেন ক্যারল। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং অভিযুক্তের অস্ট্রেলীয় ব্যাকগ্রাউন্ডসহ তার অতীতের সব গতিবিধি অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণ কেবল বিমানবন্দর বা উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাই ফুটিয়ে তোলে না, বরং বিশ্বজুড়ে বিমানযাত্রীদের নিরাপত্তাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


তদন্ত যত দ্রুত এগোচ্ছে, ততই বিমান পরিচালনা পর্ষদ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে নড়েচড়ে বসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পাইলট ও ক্রু নিয়োগের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেক আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ওমানি ওই নাগরিকের এমন আকস্মিক হিংসাত্মক আচরণের আসল মোটিভ কী ছিল, তা উদ্ঘাটনে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দারা এখন যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর