ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬,  ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, অতঃপর... আইরিশ কোচের গায়ে থুতু দেওয়ার অভিযোগ ইসরায়েলি ফুটবলারের বিরুদ্ধে ফ্লাইদুবাই হামলা: সহ-পাইলটের অস্ট্রেলিয়া সংযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ নতুন পে স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ শারদীয় দুর্গোৎসবে সুখবর: মিলছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শহীদ সেনার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত ৪ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোট অর্থহীন: দীপকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফতুল্লায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা, জনতার ইটপাটকেলে ওসি আহত

সীমান্ত থেকে ১০০০ কিমি দূরে হঠল মার্কিন বাহিনী


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১১:৪১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনীতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী দাবি করেছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুমনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাবি জোরালো কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে সরে গেছে এবং বর্তমানে তারা সীমান্ত থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

 

 তাদের এই পশ্চাদপসরণ বা দূরে সরে যাওয়ার পেছনে কোনো সাধারণ কৌশলগত রুটিন বা নিজস্ব সিদ্ধান্ত কাজ করেনি; বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী এবং আইআরজিসির অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরেই মার্কিন বাহিনী লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

 

সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ও বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ করেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাবি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে ভূকৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা উত্তর ভারত মহাসাগরের মতো বিশাল জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো ধরনের দৃশ্যমান উপস্থিতি আর অবশিষ্ট নেই। আইআরজিসির শক্তিশালী, আধুনিক ও সুনির্দিষ্ট হামলার ঝুঁকির মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও নৌবহর বর্তমানে সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও অসহায় অবস্থায় রয়েছে বলেও দৃঢ় দাবি করেছেন এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসির এই মন্তব্য বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরপ্রসারী। একদিকে যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন বন্দর ও সমুদ্রসীমায় কঠোর নৌ-অবরোধ এবং কড়াকড়ি বজায় রাখার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন বাহিনীর এই পিছু হঠার বিষয়টি প্রকাশ্যে এল।

 

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছিল যে, সামুদ্রিক যোগাযোগ ও চলাচলে কড়া নিয়ম ও বিধিমালা শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা গত জুলাই মাস থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন এই আগ্রাসী কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক চাপের বিপরীতে আইআরজিসির এই পাল্টা বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।

 

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলপথগুলোতে মার্কিন নৌবহরের এমন দীর্ঘ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি তেহরানের সামরিক শক্তির বড় একটি মানসিক ও কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবুও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতির এই দৃশ্যমান ঘাটতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর