ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬,  ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী, অতঃপর... আইরিশ কোচের গায়ে থুতু দেওয়ার অভিযোগ ইসরায়েলি ফুটবলারের বিরুদ্ধে ফ্লাইদুবাই হামলা: সহ-পাইলটের অস্ট্রেলিয়া সংযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ নতুন পে স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ শারদীয় দুর্গোৎসবে সুখবর: মিলছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শহীদ সেনার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত ৪ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোট অর্থহীন: দীপকে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত সম্মানীয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফতুল্লায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা, জনতার ইটপাটকেলে ওসি আহত

বিশ্ব শিক্ষক দিবস: ১০১ জন গুণী শিক্ষক পাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:৫৪ এএম

জাতি গঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের ১০১ জন প্রথিতযশা ও মেধাবী শিক্ষককে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। আজ ৫ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই গুণী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি ও তাদের নিবেদিতপ্রাণ সেবার মূল্যায়ন করতে সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষাঙ্গনে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

 

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ঠিক ২টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। তবে আমন্ত্রিত অতিথিরা দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে স্ব স্ব আসনে আসন গ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। এরপর স্বাগত বক্তব্য, বিশেষ অতিথিদের মূল্যবান আলোচনা এবং পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করা হবে। পরিশেষে, সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও অনুভূতি ব্যক্ত করার পর প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমাপনী ভাষণের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হবে।

 

এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এছাড়া শিক্ষা খাতের সার্বিক বিষয় নিয়ে বিশেষ বক্তব্য রাখবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। নীতিনির্ধারক ও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের এই উপস্থিতি শিক্ষকদের প্রতি বর্তমান প্রশাসনের সর্বোচ্চ সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

 

ইউনেসকো কর্তৃক ঘোষিত প্রতিপাদ্যের আলোকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত হয়ে থাকে। চলতি ২০২৬ সালের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য হলো—‘শিক্ষকদের পাশে: পেশার সুরক্ষায় ৬০ বছর, মর্যাদা এগিয়ে নেওয়া এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়া’। মূলত শিক্ষকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা, তাদের পেশাগত অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সমাজে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা এগিয়ে নেওয়া এবং একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে শিক্ষকদের অপরিহার্য ভূমিকা স্মরণ করাই এই প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য। দিবসটি উদযাপনের মাধ্যমে জাতির স্থপতিদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়।

 

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী অবদান রাখা ১০১ জন গুণী শিক্ষককে এবার মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে। নির্বাচিত প্রতিটি শিক্ষককে সম্মাননাস্বরূপ নগদ ২ লাখ টাকা, একটি সুদৃশ্য ক্রেস্ট এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির হাতে বিশেষ প্রয়োজনে এই সম্মাননার স্তর ও সংখ্যা হ্রাস বা বৃদ্ধি করার পূর্ণ ক্ষমতা সংরক্ষিত রয়েছে। এ বছর প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যে ১০১ জন শিক্ষক সম্মাননা পাচ্ছেন, তাদের পরিসংখ্যান নিচে উল্লেখ করা হলো:


প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ১০ জন শিক্ষক এই সম্মাননা পাবেন, যার মধ্যে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ জন এবং মাদ্রাসার ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ২০ জন শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন; যার মধ্যে সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন এবং মাদ্রাসার ৫ জন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কলেজ পর্যায়ে মোট ২৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে, যার মধ্যে সাধারণ শিক্ষার ১৫ জন, কারিগরি শিক্ষার ৫ জন এবং মাদ্রাসার ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে মোট ২০ জন শিক্ষককে এই মর্যাদায় ভূষিত করা হচ্ছে, যার মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন।

 

চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে মোট ১০ জন শিক্ষক সম্মাননা লাভ করবেন, যার মধ্যে ৫ জন চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় এবং ৫ জন চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এছাড়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষককে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় নির্বাচিত আরও ৬ জন গুণী শিক্ষক এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসাসহ সব উপখাতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেই এই ১০১ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

 

এত বিপুলসংখ্যক গুণী শিক্ষক বাছাইয়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও কঠোর মানদণ্ডের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষক বাছাইয়ের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রত্যেকে আলাদা আলাদা সার্চ কমিটি গঠন করেছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকেও একটি পৃথক সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। এই সার্চ কমিটিগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে ১ জনের বিপরীতে ৩ জন করে যোগ্য শিক্ষকের একটি সংক্ষিপ্ত প্যানেল তৈরি করে। পরবর্তীতে সেই প্যানেলগুলো জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় এবং সেখান থেকেই সেরা ১০১ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

 

কেবল রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় আয়োজনই নয়, বরং উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে গঠিত বিভিন্ন কমিটির সক্রিয় ব্যবস্থাপনায় সারা দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত হচ্ছে। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের সকল সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একযোগে এই ঐতিহাসিক দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। শিক্ষকদের আত্মত্যাগ, মেধা ও শ্রমের ফলেই গড়ে উঠছে আজকের শিক্ষার্থী এবং আগামী দিনের নেতৃত্ব। শিক্ষক দিবসের এই ব্যাপক আয়োজন শিক্ষক সমাজকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর