বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’র জন্য নির্বাচিত হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই মেধাবী অধ্যাপক। শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য অবদান এবং শিক্ষকতা ও গবেষণায় উৎকর্ষ সাধনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের এই বিশেষ সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা অঙ্গনে এই অর্জনে পুরো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে আনন্দের জোয়ার বইছে।
জাতীয় এই সম্মাননা লাভ করা দুই কৃতি শিক্ষক হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাসিফ আহসান। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর ও খাতের গুণী শিক্ষকদের জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে তাঁদের এই সম্মাননার জন্য চূড়ান্ত করা হয়। সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও শিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাগত নানা ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অবদানের সার্বিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে দেশের নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রতিটি শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সম্মাননা স্মারক বা ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ এবং আকর্ষণীয় আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের এই মিলনমেলা শিক্ষাখাতে এক অনুপ্রেরণাদায়ক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
খুলনার এই দুই কৃতি অধ্যাপকের গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তাঁদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা অর্জন করা কেবল সংশ্লিষ্ট দুই অধ্যাপকের জন্যই নয়, বরং পুরো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের একটি বিষয়। এই ধরনের স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও গবেষকদেরও শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও বহুগুণ বাড়াতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমানও পৃথক বার্তায় দুই অধ্যাপককে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ইউনেস্কোর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও দিবসটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জাতীয়ভাবে পালিত হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের এই আয়োজনে শিক্ষকদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে অনন্য অবদান ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খুবির দুই অধ্যাপকের এই জাতীয় স্বীকৃতি ভবিষ্যতে দেশের উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে আরও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।