রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের বর্বরোচিত হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে নজিরবিহীন ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পৈশাচিক এই হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ ছয় দফা দাবি নিয়ে টানা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বিস্তারিত আলোচনা চলে।
আলোচনা শেষে দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম প্রশাসনের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। উপাচার্য স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন যে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষী হিসেবে যাদের নাম চিহ্নিত ও প্রমাণিত হবে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে পুলিশি মামলায় অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হবে। শুধু প্রত্যক্ষ হামলাকারীরাই নয়, বরং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নেপথ্যে জড়িত সব ইন্ধনদাতা ও উসকানিদাতাকেও আইনের আওতায় এনে কঠোর প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ক্যাম্পাসে সংবাদকর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন আন্দোলনকারীরা। হলের প্রাধ্যক্ষের অপসারণ এবং প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপে প্রাথমিক স্বস্তি মিললেও সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরপরই দোষীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। ক্যাম্পাসে স্থায়ী শান্তি, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।