ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

টেনেসিতে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: জ্ঞান ফিরে কথা বলছেন বন্দি ক্রিস্টা পাইক


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১২:১৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দুটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন ক্রিস্টা পাইক নামের এক নারী বন্দি। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর হাসপাতালের বিছানায় জ্ঞান ফিরেছে তার এবং তিনি কথা বলতে শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবীরা। তবে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক প্রভাব এবং তার সুস্থতার প্রক্রিয়া নিয়ে চিকিৎসকদের মাঝে এখনও গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

 

গত ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসিতে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনের পর তাকে পেন্টোবার্বিটাল নামক শক্তিশালী ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়ার পরেও তার হৃদস্পন্দন বন্ধ না হওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশ কিছুদিন অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরের সহায়তায় তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছিল। পাইকের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় জল্লাদরা তার শরীরে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করে আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করেন। প্রক্রিয়া চলাকালীন তার ডান হাত বেগুনি হয়ে যাওয়া এবং ইনজেকশনের স্থানে তীব্র জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের মতে, শিরা ফেটে যাওয়ায় বা ভুলভাবে ইনজেকশন দেওয়ার ফলে পেন্টোবার্বিটাল রক্তপ্রবাহে পুরোপুরি প্রবেশ না করে ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়েছিল, যার পেছনে তার রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা থ্রম্বোসাইটোসিসও ভূমিকা রাখতে পারে।

 

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন। ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলের অপরাধবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডেবোরা ডেনো জানিয়েছেন, বিষাক্ত পদার্থ শরীরে প্রবেশ করানোর পরও বন্দির বেঁচে যাওয়ার এমন ঘটনা ইতিহাসে বিরল। অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডক্টর জোয়েল জিভোটের মতে, ওষুধের সঠিক গুণমান বা সঠিক মাত্রার অভাবে এমনটি ঘটে থাকতে পারে। এদিকে, এই ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসন। টেনেসির গভর্নর বিল লি রাজ্যের সমস্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করেছেন এবং পুরো ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের কমিশনার পদত্যাগ করেছেন।

 

বর্তমানে ক্রিস্টা পাইক জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বললেও তাকে কঠোর নিরাপত্তায় হাতকড়া ও শেকল দিয়ে বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার আইনজীবীরা ইতিমধ্যে তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবনে রূপান্তর করার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন। ১৯৯৫ সালে একটি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৯৯৬ সাল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই বন্দির ভাগ্য এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও শারীরিক সুস্থতার ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা ও এপি)

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর