ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংকগুলোর দ্বিমুখী কৌশল


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১১:৪৩ এএম

বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনতে কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো। ফৌজদারি তদন্তের পাশাপাশি এবার আন্তর্জাতিক দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে আইনি লড়াই পরিচালনার দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত শীর্ষ ছয়টি ঋণখেলাপি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইফুজ্জামান চৌধুরী গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও ওরিয়ন গ্রুপ। এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত খেলাপি ঋণের আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪০টি ঋণখেলাপি গোষ্ঠীকে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার জড়িত।


ব্যাংকগুলো পৃথকভাবে মামলা না করে কনসোর্টিয়াম বা সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক লড়াই পরিচালনা করছে। প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য প্রধান ব্যাংক নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠান ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১০টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘উদ্ধার না হলে পারিশ্রমিক নয়’ শর্তে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। দেওয়ানি কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশে স্থানান্তরিত গোপন সম্পদ শনাক্ত করা এবং আদালতের আদেশের মাধ্যমে তা জব্দ বা পুনরুদ্ধার করা।


এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর গঠিত আন্তঃসংস্থা সম্পদ পুনরুদ্ধার টাস্কফোর্সের তত্ত্বাবধানে ফৌজদারি তদন্ত কার্যক্রম সমান তালে এগিয়ে চলছে। অপরাধীদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বা সম্পদ স্থানান্তর রোধে ইতোমধ্যে ১৫৮ জনের ওপর বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য ১০টি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ও ব্যাংকগুলো সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর