আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্য
আমেরিকার দেশ পানামায় আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার
ভয়াবহ ভূকম্পন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬)
স্থানীয় সময় দুপুরে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক দুর্যোগের
পর দেশটির রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহুতল ভবনগুলো বিপজ্জনকভাবে কেঁপে উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ও কার্যালয় ছেড়ে
খোলা রাস্তায় নেমে আসেন। ভূকম্পনের পরই পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় অঞ্চলে মারাত্মক সুনামির পূর্বাভাস ও সতর্কতা জারি
করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা সংস্থা।
মার্কিন
ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, গ্রিনিচ মান সময় ১৭টা ৫৬ মিনিটে আঘাত
হানা এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল
ছিল পানামার দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের আজুয়েরো উপদ্বীপের ছোট শহর পিতালোজা আররিবা থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে।
প্রথমদিকে ভূমিকম্পের মাত্রা ৮.০ নির্ধারণ
করা হলেও পরবর্তীতে তা ৭.৭
হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।
ভূমিকম্পটির
কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার গভীরে
(শ্যালো ডেপথ)। কম গভীরতায়
ভূকম্পনের উৎপত্তি হওয়ায় এর তীব্রতা ও
ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতার ঝুঁকি অনেক বেশি বলে সতর্ক করেছেন ভূতত্ত্ববিদরা। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজধানী পানামা সিটিসহ পার্শ্ববর্তী দেশ কোস্টারিকা ও কলম্বিয়াতেও শক্তিশালী
ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। আতঙ্কে রাজধানীর উঁচু ভবনগুলো থেকে লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সুনামি
সতর্কতা ও উপকূলীয় ঝুঁকি:
ভূকম্পনের
পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা জানিয়েছে, মেক্সিকো থেকে শুরু করে পেরু পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ ও ধ্বংসাত্মক সুনামি
ঢেউ আঘাত হানতে পারে।
সংস্থাটি
সতর্ক করে জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূকম্পনের প্রভাবে
পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই অঞ্চলে ভয়াবহ
সুনামি তরঙ্গ তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে উপকূলীয়
অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সমুদ্রে ভেসে যাওয়া কিংবা পানির তীব্র তোড়ে ভেসে আসা উপ উপাদানের আঘাতে
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
উদ্ভূত
পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়
প্রশাসন ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের কোনো ধরনের দেরি না করে দ্রুত
নিরাপদ ও অপেক্ষাকৃত উঁচু
স্থানে আশ্রয় নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।