২০২৬
সালে শান্তিতে মর্যাদাপূর্ণ নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর সাবেক বিচারপতি
এবং দক্ষিণ আফ্রিকান বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ নাভি পিল্লাই। সম্মানজনক এই পুরস্কার পাওয়ার
পরপরই এক অনুষ্ঠানে মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে নিশানা করে
রসিকতার সুরে খোঁচা দিয়েছেন তিনি। তিনি মজা করে বলেছেন, দর্শকরা যদি আরেকটু বেশি করতালিয়ে অভ্যর্থনা জানান, তবে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের এই নোবেল পুরস্কারটি
ভাগ করে নিতেও প্রস্তুত আছেন!
নোবেল
কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ভাটনে ফ্রিডনেস পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণার সময় জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার সুপরিচিত বিচারক ও বিশিষ্ট আইন
বিশেষজ্ঞ নাভি পিল্লাই ‘বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রেখেছেন’। কমিটির প্রধান
আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর নানা দিক থেকে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রমাগত বৈশ্বিক আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
দীর্ঘদিন
ধরেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য প্রচণ্ড আগ্রহী ও মরিয়া মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বমঞ্চে নিজের কূটনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পেতে
তিনি ইতোপূর্বে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির ওপর নানাভাবে চাপও সৃষ্টি করেছিলেন। গত বুধবার (৭
অক্টোবর) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প ক্ষোভ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে
বলেছিলেন, আমি বিশ্বের এমন সব কঠিন কাজ
করেছি যা আগে অন্য
কোনো বিশ্বনেতা করতে পারেননি। আমি কোনো অহেতুক বড়াই করছি না, কেবল বাস্তব সত্যটা তুলে ধরছি। ইতিহাসের কোনো প্রেসিডেন্ট সম্ভবত একের পর এক আন্তর্জাতিক
যুদ্ধ থামাননি, অথচ আমি বিশ্বজুড়ে আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি।
অ্যামনেস্টি
ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড-এর শেয়ার করা
এক বিশেষ ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, জার্মানির ঐতিহাসিক নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় ট্রাম্পের নোবেলপ্রীতিকে কেন্দ্র করে এই কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য
করেন পিল্লাই। উপস্থিত দর্শকদের বিপুল করতালির জবাবে তিনি হাসতে হাসতে রসিকতা করে বলেন, আপনারা যদি আরেকটু বেশি তালি দেন, তাহলে হয়তো আমি এই পুরস্কারটি ট্রাম্পের
সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।
উল্লেখ্য,
গত বছর ভেনেজুয়েলার তৎকালীন নিকোলাস মাদুরো সরকারের কঠোর শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করা ‘গণতন্ত্র ও শান্তি কর্মী’
মারিয়া কোরিনা মাচাদো-কে শান্তিতে নোবেল
পুরস্কার দেওয়া হলে তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। সে সময় নোবেল
কমিটির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ শান্তির চেয়ে ‘নোংরা রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার’ গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল মার্কিন প্রশাসন। পরবর্তীতে বিজয়ী মাচাদো প্রথা ভেঙে প্রতীকীভাবে নিজের পদকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, এটি ‘আমাদের দেশের স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অনন্য ও অসামান্য প্রতিশ্রুতির
ঐতিহাসিক স্বীকৃতি’।