ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে আটক


  • আপলোড সময় : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১২:০৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভে যোগ দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান অভিজিৎ দীপকে। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইজিআই) থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলের আরও দুই শীর্ষনেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা-কেও আটক করে দিল্লি পুলিশ।

 

ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যসূত্র অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিশাল গণবিক্ষোভে সরাসরি নেতৃত্ব দিতেই বিমানে চড়ে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তবে বিমানবন্দরে পা রাখার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের ঘিরে ফেলে এবং হেফাজতে নেয়।

 

নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার ঠিক পূর্বে এক প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দীপকে আগেই জানিয়েছিলেন যে, ন্যায়সঙ্গত গণবিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার বা আটক হতে হলেও তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতা করে তিনি অভিযোগ তোলেন, রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তাজনিত নানা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের নামে সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যোগ দিতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকার।

 

রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বাধীন চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন সিজেপি প্রধান। তাঁর অনড় অভিযোগ, বর্তমান মোদি সরকার তাঁদের ভুল পদক্ষেপ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছে বলেই আজ এমন প্রশাসনিক দমনপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।

 

এদিকে সিজেপির প্রস্তাবিত এই উচ্চপর্যায়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লিজুড়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যন্তর মন্তর ও আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীলতা এড়াতে দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ নম্বর ধারার আওতায় ইতিমধ্যে অন্তত ৬০০ জন বিক্ষোভকারী ও নাগরিককে আটক করা হয়েছে। রাজধানীর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও মোড়ে মোড়ে বাড়ানো হয়েছে সর্বাত্মক গোয়েন্দা নজরদারি।

 

শনিবার সকাল ৬টা থেকেই দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজপথে কার্যকর করা হয়েছে অত্যন্ত কঠোর ট্রাফিক বিধিনিষেধ। মোড়ে মোড়ে উঁচু ব্যারিকেড বসিয়ে প্রতিটি গাড়ি গভীরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং পথচারীদের যাতায়াতের ওপর কড়া দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তার এই চরম কড়াকড়ির পাশাপাশি একাধিক মেট্রো স্টেশনের পরিষেবা সীমিতকরণ, বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল এবং রাজধানীর কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কঠোর সিদ্ধান্ত বলবৎ রাখা হয়েছে।

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর