আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আলোচিত ডিজেলসংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি নিয়ে তোপ দাগানোর পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইউক্রেনের এখন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে, যিনি সংঘাত সমাধানের বদলে সমঝোতা চুক্তিতে বেশি বিশ্বাসী হবেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) হোয়াইট হাউসের বাইরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা মস্কোর সঙ্গে সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তি নিয়ে ইউক্রেনের আপত্তি তুলে ধরলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন জেলেনস্কি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, "আমরা পরিষ্কার বলেছিলাম—রাশিয়ার বিরুদ্ধে তোমরা যা খুশি করতে পারো, কিন্তু ওদের তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা কোরো না। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক সমস্যা তৈরি করছে। জেলেনস্কির উচিত এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা। তাঁর অনেক আগেই চুক্তিতে আসা উচিত ছিল, কিন্তু অজানা কারণে তিনি কখনোই তা করেননি। ইউক্রেনের এমন একজন নতুন নেতা প্রয়োজন যিনি চুক্তি করতে পারেন।"
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ার ওপর থেকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণার পর। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানির মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ৭ই এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রথম ধাপে বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টন এবং পরবর্তীতে নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন রুশ ডিজেল সরবরাহ করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ জানান, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরও ৩০ লাখ টন পর্যন্ত ডিজেল আমদানি করা হতে পারে।
মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ‘বড় উপহার’ বলে অভিহিত করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিষেধাজ্ঞার ছাড় পাওয়ায় রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ নতুন অর্থ পাবে, যা ইউক্রেনের শহরগুলোতে বোমাবর্ষণ করতে এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পুতিনকে আর্থিক রসদ জোগাবে। ২০২২ সালে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকায় সে দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতিতে এই পরিবর্তনের ইঙ্গিতকে অত্যন্ত 'ঐতিহাসিক ও অসাধারণ' বলে স্বাগত জানিয়েছেন পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া এই ডিজেল চুক্তির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রতি তাঁদের পূর্ণ সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কালাস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ওপর থেকে চাপ কমাবে না, বরং সোমবার মস্কোর বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দেশে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম (বর্তমানে গ্যালনপ্রতি ৬.২৮ ডলার) ও মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ সামাল দিতেই ট্রাম্প রুশ তেল আমদানির এমন বিতর্কিত পদক্ষেপে অনড় অবস্থান নিচ্ছেন।