আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ও কথিত ভোট চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে দেশটির মহামান্য প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছে বিরোধীদলীয় জোট ‘ইন্ডিয়া’। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বিস্ফোরক দাবি করে বলেছেন, সাক্ষাতে নির্বাচনী কারচুপির গুরুতর অভিযোগগুলো শুনে প্রেসিডেন্ট তা সরাসরি অস্বীকার করেননি; বরং তিনি বিরোধী শিবিরের কাছে এর সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ তলব করেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) আয়োজিত এই বৈঠকে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এর আগে রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধীদের একটি বিশাল সংসদীয় প্রতিনিধি দল সংসদ ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট ভবন অভিমুখে এক প্রতিবাদী মিছিল নিয়ে যায়। তবে নিরাপত্তা বলয়ের কারণে প্রতিনিধি দলের একটি ছোট অংশ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পান, আর বাকি নেতারা মধ্য দিল্লির কর্তব্যপথে অবস্থান নিয়ে ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ স্লোগানে চারপাশ মুখরিত করেন।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রাহুল গান্ধী প্রেসিডেন্টর এমন অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "নির্বাচনে কীভাবে এবং কোথায় ভোট চুরি করা হয়েছে, তার অকাট্য ও পুঙ্খানুপুঙ্খ সব প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। দেশের আপামর জনসাধারণও তা প্রত্যক্ষ করেছে।" তবে রাহুল গান্ধীর এই দাবির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ভবন। রাজভবন সূত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্টকে এই ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক বা দড়িটানাটানির মধ্যে টেনে আনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টর কাছে পেশ করা চার দফা প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি প্রদানকারী আইন বাতিল করা।
২. ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করে তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল করা।
৩. ইভিএমের পরিবর্তে দেশের সব নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী কাগজের ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনা।
৪. গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপির তথ্যপ্রমাণ মিলেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্বাচন বাতিল করা।
প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে এই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন এবং সেখানেও বিচারপতির হাতে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি তুলে ধরবেন।
এদিকে বিরোধী জোটের এই কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করে বলেছেন, কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অসৎ উদ্দেশ্যে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রেসিডেন্টর দপ্তরকে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে আনছে। সাংবিধানিক সংস্থাগুলোকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।