ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে যেকোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও রাজনৈতিক বিক্ষোভ প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার স্বাক্ষরিত এক জরুরি কার্যালয় আদেশের মাধ্যমে এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
পুলিশের নতুন এই আদেশে জানানো হয়, এখন থেকে রাজধানীতে যেকোনো ধরণের গণসমাবেশ বা প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বিকল্প হিসেবে তিনটি নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহার করতে হবে। নির্ধারিত নতুন স্থানগুলো হলো—রামলীলা ময়দান, বুড়ারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান। এই তিন ময়দানে কর্মসূচি পালনের জন্য শিগগিরই নতুন ও সংশোধিত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ ও সমাবেশের স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে নির্দেশ জারি করেছিল; আজকের নতুন আদেশের মাধ্যমে পূর্বের সেই বিধানটি পুরোপুরি রদ করা হলো।
সম্প্রতি ভারতের তরুণ প্রজন্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ধারাবাহিক নানা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল যন্তর মন্তর। তারা মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে গত জুনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সেখানে সফল আন্দোলন করেছিল। পরবর্তীতে গত ১০ অক্টোবর ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে নতুন সমাবেশের ডাক দেয় সিজেপি।
পুলিশি বাধার কারণে ওই কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায় এবং সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে এক বছরের জন্য শান্ত থাকার মুচলেকায় ছাড়া পেয়ে দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস পুলিশকে যন্তর মন্তরে পুনরায় 'শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের' অনুমতি চেয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রদান করেন। তবে তরুণ রাজনৈতিক শক্তির সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ যন্তর মন্তরেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে দিল প্রশাসন।