ফিলিস্তিনের
অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারদের ভয়াবহ নির্যাতন ও মৃত্যুর হুমকির
মুখে ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে ৪৭টি ফিলিস্তিনি পরিবার। ইতোমধ্যে সশস্ত্র দখলদারদের সরাসরি হুমকির মুখে চারটি পরিবার নিজ গৃহ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে প্যালেস্টাইন কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন। ফিলিস্তিনের এই সরকারি সংস্থাটি
সোমবার জানায়, তুবাসের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত খিরবেত রাস আল-আহমার গ্রামের
বসতবাড়িতে ঢুকে স্থানীয় বাসিন্দাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে সশস্ত্র দখলদাররা, যা পুরো এলাকার
ফিলিস্তিনিদের জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
সংস্থাটির
তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় এক
মাস ধরে খিরবেত রাস আল-আহমার গ্রামটিকে
সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গ্রামের সব সংযোগ সড়ক
বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি পানি ও পশুখাদ্যের সরবরাহ
মারাত্মকভাবে সীমিত করা হয়েছে, যা স্থানীয় অধিবাসীদের
জীবিকাকে ধ্বংসের মুখে ফেলেছে। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে দখলদার বাহিনী গ্রামের একমাত্র অবশিষ্ট পথটিতে পরিখা খনন করে অবরুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। ফলে গ্রেপ্তার এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন রাতের আঁধারে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে এবং ভোরের আলো ফোটার আগেই যাতায়াত সারতে হচ্ছে। এছাড়া ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গ্রামের ছয়টি পানির কুয়া ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, পানির পাম্প বাজেয়াপ্ত করেছে এবং বারবার পানির পাইপলাইন কেটে দিয়েছে।
সর্বশেষ
গত ১০ অক্টোবর ইসরায়েলি
দখলদাররা ওই ৪৭টি পরিবারকে
পরবর্তী সন্ধ্যার মধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেয়। কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব বিধিনিষেধ ও নির্যাতন বজায়
থাকলে আরও বহু পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবে, যা পরবর্তীতে ফিলিস্তিনিদের
জমি দখলের পথ সহজ করবে।
পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকা যেমন নাবলুসের কাছে জালুদ এবং হেব্রনের কাছে ওয়াদি আল-রাখিমেও একইভাবে
ভয়ভীতি দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
সংস্থাটি
অবিলম্বে গ্রামের অবরুদ্ধ রাস্তা খুলে দেওয়া, জরুরি পানি সরবরাহ পুনর্বহাল এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম
তীরের ৩৭৬টি ফিলিস্তিনি গ্রামে অন্তত ১৪,৭৪২টি আক্রমণের
ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলিদের হামলায় ৬৭ জন ফিলিস্তিনি
প্রাণ হারিয়েছেন।