ইয়েমেনের
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ভয়াবহ
ও জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত কঠোর নজরদারিতে দিন কাটাচ্ছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। হামলা তীব্র হওয়ায় ৪১ বছর বয়সী
এই যুবরাজকে এক সুরক্ষিত প্রাসাদ
থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তিনি বর্তমানে জনসমক্ষে আসা বন্ধ রেখেছেন। যুবরাজের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল তাঁর সুরক্ষায়
নিয়োজিত রয়েছে এবং প্রাসাদগুলোতে তৈরি করা হয়েছে শক্তিশালী বাংকার।
যুক্তরাষ্ট্রের
শীর্ষ সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ
খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার জাতীয়
রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে যুবরাজ
মোহাম্মদ বিন সালমানকে আর জনসমক্ষে দেখা
যায়নি। হুতিদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে তাঁর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ নজরদারি নিশ্চিত করতেই তাঁকে একটি সুনির্দিষ্ট ও বুলেটপ্রুফ বাংকারসমৃদ্ধ
প্রাসাদে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জন নিহত
এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সংঘাতের মধ্যে এটিই ছিল অঞ্চলে সবচেয়ে বড় একক প্রাণঘাতী হামলা।
ভয়াবহ
এই হামলার পর থেকে রিয়াদের
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গত পাঁচ দিনে
সেখানে অন্তত চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলার কড়া
প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সৌদির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান সতর্ক করে বলেছেন, এর জবাব হবে
সমানভাবে কঠোর। অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, হুতিদের ওপর সৌদি সামরিক হামলায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।
মূলত
২০১৫ সাল থেকে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ২০২২ সালের
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এ বছরের জুলাইয়ে
ভেঙে পড়ে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই পরিস্থিতির অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন। তবে হুতিদের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়
পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চল
এখন গভীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। — সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল