ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের প্রধান আস্তানা লক্ষ্য করে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালাতে যাচ্ছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী সামরিক জোট। হামলায় সাধারণ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে সানার নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল ও স্পর্শকাতর স্থাপনা থেকে সর্বস্তরের জনগণকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানচিত্র প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে এলাকা ত্যাগের এই কড়া আহ্বান জানানো হয়। রাজধানী সানায় সামরিক জোটের এই 'বিশেষ অভিযান' ও বিমান হামলার ঘোষণার পরপরই ইয়েমেন ও সৌদির মধ্যকার কয়েক বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন ও ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি নিশ্চিত করেন যে, সানা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরে যেতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) সানার ‘ইয়েমেনি তেল কোম্পানি/ আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় স্টেশন’ নির্দেশিত একটি মানচিত্র শেয়ার করেন এবং সাধারণ নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে স্থানটি খালি করে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। এর আগের পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, সানায় তারা একটি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করবেন, যার কারণে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণ রক্ষার্থে আগেই এই আগাম সতর্কতা ও সরে যাওয়ার নির্দেশনা জারি করা হলো।
সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর এই বিমান হামলার হুমকির পর মুহূর্তেই চরম বার্তা দিয়ে পালটা সশস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির শক্তিশালী সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এক জরুরি বার্তায় বলেন, ইয়েমেনের স্বাধীন রাজধানী সানায় যেকোনো ধরনের বিমান হামলা বা আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব হিসেবে সরাসরি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নতুন করে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে। হুথিদের এই সম্ভাব্য পালটা আঘাত সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত কঠোর ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক হবে বলেও তীব্র হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিগত কিছুদিন ধরে ইয়েমেনের হুথি এবং সৌদি জোটের মধ্যে আকাশপথে নজিরবিহীন সরাসরি সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ছোড়া একটি ভয়াবহ মিসাইল হামলায় ১২ জন নির্দোষ মানুষ নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন। ওই মর্মান্তিক ও রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর থেকেই হুথি বিদ্রোহীদের সব সামরিক ও পরিকাঠামোগত আস্তানা চিরতরে ধ্বংস করতে সৌদি সামরিক জোট একের পর এক কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে আসছে।