ইয়েমেনের রাজধানী সানায় মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি সৌদি সামরিক জোটের সম্ভাব্য প্রলয়ংকরী বিমান হামলার প্রস্তুতির মুখে চরম পালটা হুঁশিয়ারি ও আলটিমেটাম উচ্চারণ করেছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তিনটি প্রধান স্থাপনা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সকল সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চূড়ান্ত কড়া নির্দেশ জারি করেছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
যদি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট তাদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সানার তেল স্থাপনায় প্রত্যক্ষ কোনো বিমান হামলা শুরু করে, তবে এর ভয়ংকর ও কঠোর প্রতিশোধ হিসেবে রিয়াদ ও দাম্মামের বড় অর্থনৈতিক এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানের এই প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল মায়েদানের বরাতে হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে এই চূড়ান্ত পালটা ঘোষণা ও সতর্কবাণী প্রচার করা হয়।
হুথিদের প্রকাশিত ওই বিশেষ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের সানা নগরীতে বিমান হামলা পরিচালনার রক্তক্ষয়ী দুঃসাহস দেখায়, তবে তার কড়া মাশুল হিসেবে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তিন স্থাপনাকে সরাসরি নিশানা করা হবে। তালিকাভুক্ত এই তিনটি প্রধান স্থাপনা হলো—সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য দাম্মামে অবস্থিত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আরামকোর মূল সদর দপ্তর, রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ রিয়াদ কিং খালিদ বিমানবন্দর এবং রিয়াদ শহরের কৌশলগত আরামকোর বিশাল তেল পরিশোধনাগার। বেসামরিক মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়াতে এই মুহূর্তেই উক্ত তিনটি স্পর্শকাতর স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা থেকে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরে যাওয়ার এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করার কড়া আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
উল্লেখ্য, বিগত কিছুদিন ধরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সরাসরি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ নজিরবিহীনভাবে চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নিক্ষিপ্ত এক ভয়াবহ মিসাইল হামলায় ১২ জন সাধারণ নাগরিক নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই সৌদির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সানাসহ বিভিন্ন ঘাঁটিতে ব্যাপক বিমান হামলা ও বিশেষ সামরিক অভিযান চালিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দিনে সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি সানার ‘ইয়েমেনি তেল কোম্পানি/ আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় স্টেশন’ থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যেতে নির্দেশনা প্রদান করার পরই হুথিরা এই পাল্টা আক্রমণের সর্বাত্মক প্রস্তুতি প্রকাশ করে।
এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই আজও রিয়াদের আকাশে একাধিক ড্রোন ছুড়ে নিজেদের বিপজ্জনক উপস্থিতির জানান দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। অবশ্য সৌদি জোটের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই ড্রোনগুলোকে মাঝ আকাশেই বিমান হামলার মাধ্যমে সফলভাবে ধ্বংস ও ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। তবে ঠিক কোন কৌশলগত অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই ড্রোনগুলো ছুড়ে মারা হয়েছিল বা এর সুনির্দিষ্ট উড্ডয়নস্থল কোথায় ছিল, সে সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ্যে আনেননি সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি। দুই পক্ষের এমন সর্বাত্মক ও পালটাপালটি সামরিক প্রস্তুতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে গভীর শঙ্কা ও অস্থিরতার ঘনঘটা দেখা দিয়েছে।