ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে ধ্বংসাত্মক তিনটি সশস্ত্র ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মূখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এই বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সৌদি জোটের সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের সম্ভাব্য রক্তক্ষয় ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রাজধানী রিয়াদ রক্ষা পেলেও এ ঘটনার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও ওই অঞ্চলে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সৌদি আরবের আকাশে ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও সফলভাবে ধ্বংস করার তথ্য প্রদান করেন। তবে ড্রোনগুলো ঠিক রিয়াদের কোন স্পর্শকাতর সামরিক বা বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ করে ছুড়ে মারা হয়েছিল এবং কোন সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ড থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে জোটের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সামরিক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে রাজধানী রিয়াদ অভিমুখে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে গত রবিবার দেশটির ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী এক হামলা প্রত্যক্ষ করে রিয়াদ। ওই দিন রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যস্ততম টার্মিনালে সরাসরি একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল আঘাত হানলে ১২ জন নির্দোষ মানুষ নিহত হন এবং অন্তত তিন শতাধিক মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন। ওই ভয়াবহ হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি প্রবাসী নাগরিক ছিলেন এবং পরবর্তীতে গুরুতর আহত হয়ে আরও চারজন বাংলাদেশি বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে যে, সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যৌথ সামরিক হামলার একটি গোপন প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলের সেই বিতর্কিত প্রস্তাবে সোজাসাপ্টা রাজি হননি সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পেশ করা এই প্রস্তাবে ক্রাউন প্রিন্স রাজী না হওয়ার প্রধান কারণ ছিল—ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি সহায়তা নিলে সমগ্র মুসলিম বিশ্বসহ নিজ দেশের সাধারণ জনগণ চরম ক্ষুব্ধ হতে পারেন। ইসরায়েলের এই প্রস্তাব মূলত আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণ ও সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অংশ ছিল বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।