ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামো জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশু বা রোগীর গর্ভধারিণী মাকে দিয়ে জোরপূর্বক হাসপাতালের নোংরা মেঝে পরিষ্কার করানোর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অমানবিক ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা নিয়ে সর্বস্তরে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, এক নারী একা হাতে গভীর মনোযোগের সাথে হাসপাতালের নোংরা মেঝে পরিষ্কার করছেন। অভিযোগ উঠে এসেছে, ওই নারী মূলত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর মা এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জোরপূর্বক পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হয়েছে। হাসপাতালে সরকারিভাবে নিযুক্ত নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মী বহাল থাকা সত্ত্বেও কেন একজন অসহায় রোগীর স্বজনকে দিয়ে এমন ন্যক্কারজনক কাজ করানো হলো, তা নিয়ে সচেতন নাগরিকরা বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হৃদয়বিদারক এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের দামো জেলা সদর হাসপাতালে। ভিডিওটি জনসম্মুখে আসার পর পুরো প্রদেশের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার নিম্নমান, স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীলতা এবং হাসপাতালে আসা রোগীদের স্বজনদের সাথে তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় ঘটনার সম্পূর্ণ ও প্রকৃত প্রেক্ষাপট পুরোপুরি স্পষ্ট করা যায়নি। ওই নারীকে ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতিতে বা কীসের বিনিময়ে ওই নোংরা মেঝে পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়েছিল, কিংবা তিনি প্রশাসনিক কোনো চাপের মুখে পড়ে কাজটি করেছিলেন কি না—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে চারদিকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নিজেদের দায় এড়াতে সাফাই গেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা দাবি করেছে, ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়; বরং প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগের একটি পুরনো ঘটনার। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও বিবৃতিও প্রদান করা হয়েছে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভিডিওটিকে পুরোনো বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ঠিক কী কারণে এবং কার নির্দেশে ওই অসহায় নারীকে দিয়ে নোংরা মেঝে পরিষ্কার করানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য তারা উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে ঘটনার মূল কারণ এবং দায়িত্বে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা ও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।