পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ক্ষুব্ধ সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো প্রদেশে ইন্টারনেট পরিষেবায় কড়া বিধিনিষেধ আরোপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, শিপিং কনটেইনার দিয়ে প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রদেশটির বুররা বা বড়া এলাকায় সংঘর্ষের সময় এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করে ইসলামাবাদ কেন্দ্র থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা গভর্নর শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদেই মূলত এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পিটিআই নেতাদের গুরুতর অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালে তাঁদের নিরপরাধ সমর্থকদের লক্ষ্য করে পুলিশ নির্বিচারে কাঁদানে গ্যাস ও সরাসরি তাজা গুলি ছুড়েছে। তবে পুলিশের গুলির এই গুরুতর অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে প্রাদেশিক প্রশাসন।
এর আগে সীমান্ত এলাকায় জঙ্গি সহিংসতা বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে গত রবিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্য দিয়ে সরাসরি প্রাদেশিক প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে ইমরান খানের দল সরকারের এই পদক্ষেপকে কেবল অনৈতিক রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের বাহানা হিসেবে অভিহিত করেছে।
প্রাদেশিক প্রশাসনের তথ্য ব্যবস্থাপক সামার হারুন বিলুর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলিবর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও ব্যবহার করে অজ্ঞাত সামাজিক মাধ্যমের হিসাব থেকে এসব ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ কেবল পরিকল্পিত সহিংসতা ও ভাঙচুরের যথাযথ জবাব দিয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর আইনে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইমরান খানের অন্যতম সহযোগী ও পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রকাশ করা ভিডিওগুলোতে মূল বাজার এলাকায় সংঘটিত সহিংসতা ও হামলার প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। জরুরি অবস্থা জারিকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর একপ্রকার অভ্যুত্থান হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সতর্ক করেছেন, এর ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রভাব পাকিস্তানের অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে দুই পক্ষের দেওয়া এসব বিপরীতমুখী দাবি ও ভিডিও স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
পিটিআইয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ভূত সংঘর্ষে তাঁদের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সবচেয়ে সংবেদনশীল ঘটনার খবর পাওয়া গেছে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বারা নামক এলাকায়। পিটিআইয়ের তথ্যসচিব ইকরাম খাটানা অভিযোগ করেন, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (নাদরা) একটি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তবে এর পেছনে কারা জড়িত তা তদন্ত করে নিশ্চিত করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের রাজনৈতিক ও আইনি সংকট এবার আরও নতুন রূপ নিল।
(সূত্র: রয়টার্স)