বরিশালে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বিসিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল চলাকালে প্রতিপক্ষ দলের এক বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে কুস্তির কায়দায় তুলে আছাড় মারার ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠের চারদিক থেকে দর্শকরা গিয়ে এক নাইজেরিয়ান ফুটবলারকে মারধর করেন। এই তুলকালাম কাণ্ড ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনাল খেলাটি অসম্পূর্ণ থেকে পণ্ড হয়ে গেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাস আউটার স্টেডিয়ামে ঐতিহ্যবাহী এই ফুটবল ম্যাচ চলাকালে এ ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে মাঠে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্য, প্রতিযোগিতার আয়োজক এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বরিশাল রেফারি সমিতির সহ-সভাপতি মাকসুদ আলম বেগ জানান, বিসিসি কাপ টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে শহীদ জিয়া সড়ক একাদশ ও শেরে বাংলা সড়ক একাদশের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা চলছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে জিয়া সড়ক একাদশ ১-০ গোলে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় শেরে বাংলা একাদশ।
তবে মূল খেলার সময় শেষ হওয়ার মাত্র ৩০ সেকেন্ড বাকি থাকতে মাঠের ভেতরে হঠাৎ দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় শহীদ জিয়া সড়ক একাদশের পক্ষে খেলতে নামা ৪ নম্বর জার্সি পরা নাইজেরিয়ান ফুটবলার ইডেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি শেরে বাংলা একাদশের ৭ নম্বর জার্সিধারী স্থানীয় খেলোয়াড় রাব্বিকে শূন্যে তুলে রেসলিংয়ের স্টাইলে মাটিতে আছাড় মারেন।
বিদেশি খেলোয়াড়ের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সহিংস আচরণ দেখে গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান। শত শত ক্ষুব্ধ দর্শক বেড়া টপকে মাঠে ঢুকে ওই নাইজেরিয়ান খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে মারধর করেন। সে সময় দায়িত্বরত পুলিশ ও আয়োজকরা দ্রুত নাইজেরিয়ান ফুটবলারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও মাঠে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় খেলা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২-১ গোলে এগিয়ে থাকা শেরে বাংলা একাদশের জয় ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে এবং টুর্নামেন্ট কমিটি এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মাঠের ভেতরে দুই খেলোয়াড়ের বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে নাইজেরিয়ান প্লেয়ার স্থানীয় এক খেলোয়াড়কে আছাড় মারলে দর্শকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।