বগুড়া প্রতিনিধি
শ্রেণিকক্ষে
শাসনের ক্ষোভ থেকে শিক্ষকের ওপর নির্মম হামলা চালিয়ে থুতনিতে ৮টি সেলাই বসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক আবু রায়হানের ওপর হামলার পর থেকে আত্মগোপনে
থাকা ওই শিক্ষার্থীকে ধরে
আইনের আওতায় আনা হলো।
আটককৃত শিক্ষার্থী
রিয়াদ ইসলাম কিরণ (১৩) বগুড়া শহরের বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং বগুড়া সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ এলাকার বিপুল মিয়ার ছেলে।
ঘটনার সত্যতা
নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, শিক্ষকের ওপর হামলার মারাত্মক ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত
শিক্ষার্থী পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে চারমাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় থানায়
মামলা দায়েরের পাশাপাশি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার
বিবরণ থেকে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে
বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার
পথে উপশহর রোডে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক আবু রায়হানের ওপর আচমকা অতর্কিত হামলা চালায় ওই শিক্ষার্থী। ক্লাসে
অতিরিক্ত দুষ্টুমি ও নিয়মভঙ্গের কারণে
শিক্ষক তাকে সতর্ক করে দিয়েছিল এবং অভিভাবকদের স্কুলে ডেকে নিয়ে আসতে বলেছিল। শিক্ষকের এমন শাসনের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ও প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে
ওঠে ওই শিক্ষার্থী। এরপর
সুযোগ বুঝে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কাঠের লাঠি দিয়ে শিক্ষকের ওপর পাশবিক হামলা চালায় সে। লাঠির প্রচণ্ড আঘাতে শিক্ষকের থুতনি মারাত্মক ফেটে গিয়ে আটটি সেলাই দিতে হয় এবং তার
ঘাড়ে গুরুতর জখম হয়।
শিক্ষকের ওপর
এমন ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার দুপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি
পালন করেন সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ঘটনার
পরই সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তোপের
মুখে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতামূলক ছাড়পত্র (টিসি) প্রদান করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।